কবিতা — প্রিয়তমা

আমি তোমাকেই ভালোবাসি, প্রিয়তমা,
যেমন সহস্র বছরের ক্লান্ত পথ
শেষ বিকেলের ছায়ায় একটি নদীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।

একদিন তোমার বুকে মাথা রাখব
কোনো শোকে নয়, কোনো পরাজযয়ে নয়,
কেবল পৃথিবীর সমস্ত আর্তনাদ নামিয়ে রাখার জন্য।

আমি বহুদিন মানুষ খুঁজেছি।
নগরের ভিড়ে, সভ্যতার শ্বেত পাথরে,
ধর্মগ্রন্থের উজ্জ্বল অক্ষরে,
পতাকার উন্মত্ত বাতাসে
কোথাও মানুষের জীবাশ্মও খুঁজে পাইনি।

দেখেছি, শিশুর জন্মেরও পরিচয় লেখা হয়;
রুটির চেয়েও সস্তা হয়ে যায় জীবন;
আর ভালোবাসা আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে
নিজের নিষ্পাপ বুক খুলে কাঁদে।

হে প্রিয়তমা, এ কেমন কিয়ামত!
এখানে ইবলিসও
মানুষের কাছ থেকে ঘৃণার তালীম নেয়।

তাই আমি আর এই রওশন দুনিয়ার
অন্ধ মেলায় ফিরতে চাই না।
আমার চোখে এখন অন্ধকারও নূরের মতো পবিত্র!

যদি তুমি মৃত্যু হও
তবে এসো, কোনো আতঙ্ক হয়ে নয়;
এসো মায়ের কপালে রাখা শেষ দোয়া হয়ে,
ভোরের নৈসর্গিক শব্দের আগে নিঃশব্দ শিশির হয়ে,
কিংবা ধানক্ষেতের উপর নেমে আসা অচেনা কুয়াশার মতো।

আমি ঘুমিয়ে পড়ব।
আর স্বপ্নে দেখব— পৃথিবীতে আর কোনো জাত নেই,
কোনো ধর্ম নেই,
কেবল ক্ষুধার পাশে রুটি,
কান্নার পাশে কাঁধ,
আর মানুষের পাশে মানুষ।

যদি জাগি, তবে সেই পৃথিবীতেই জাগব।
আর যদি না জাগি,
তবে তোমার বুকের নীরব মাটিতে আমার সমস্ত প্রেম,
সমস্ত বিদ্রোহ, সমস্ত ক্ষমা বীজের মতো শুয়ে থাকুক।

হয়তো কোন একদিন
আমার মৃত্যুর পর
কোনো অচেনা শিশুর কণ্ঠে আবার উচ্চারিত হবে পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্মৃত শব্দটি—
“মানুষ।”
……….. ………

২ বার পঠিত রিপোর্ট

মন্তব্য করুন

লেখকের অন্যান্য প্রকাশনা