মাথার ওপরে নীল আকাশ, বাঁকা চাঁদ এসেছে নেমে মাটির কাছে,

শুভ্র শীতল রাতে যেন চৈত্রের নিদাঘের হাঁসফাঁস হৃদয়ের মাঝে।

ভ্রষ্টলক্ষ্য, কখনো কখনো হয়েছি হতাশ—

জন্ম হতেই যাত্রা শুরু পৃথিবীর পথে,

দিনে আর রাতে, চলেছি নিজের মতে,

পায়ের নিচে রেখে মাটির নরম ঘাস,

চলার পথে, কখনো হয়েছি বা উদাস।

মানুষ এসেছিল কত, কেউবা অসহায়,

কেউ ভালোবেসে হাত ধরে বাঁচতে চায়;

জানি না পথে চলতে আমি কখনো হয়েছি কারো সহায়?

শুধু দেখেছি পথ— আপন নেশায়।

বলেছিল মা, "খোকা, তুই আসবি না?

তোকে না দেখে চোখের আলো যে নিভবে না—"

ভেদ করে কথাগুলো আজও বুকে বিঁধে যায়,

এ পথ, ও পথ, তবু আমি শুধু চলি—

জীবনের জানা না-জানা কত গলি!

প্রেয়সী রূপসী সুদেষ্ণা— খুঁজেছিল জীবনের নীড়,

প্রেমে বেঁধে ছায়াঘন তৃষ্ণা;

সুদীর্ঘ পথে দুহাত মেলে দিয়েছিল তার,

সুন্দর চোখ দুটি আলো করে মিঠে সন্ধ্যার;

তবুও ভুলে গেছি কালে সেই নিবিড় প্রেমের কুটির—

কোন সন্ধ্যার সমীরণে

যখন তারারা কথা বলে কানে কানে,

না-দেখা অন্তরের প্রতি কোণে কোণে

আগুন জ্বলে ওঠে মনের চৈত্রের দহনে।

মানবের হৃদয় এ ধরায়—

অনুভবের আগুনে ধীরে ধীরে পুড়ে যায়?

অবচেতন হৃদয়ও তো অনুভবী;

অক্ষম হৃদয় হতে পারে কি নবী?

স্রষ্টা কৃপণ নন আমারও প্রতি;

বিবেক, বেদনা, শক্তি, চেতনা—

পেয়েছি সমান, শুধু মনের নতি

ভেঙে দিয়েছে সততার সাধনা?

আমারই মতো মানুষ যারা,

ভেঙেচুরে দলে দেয় সমাজের নিয়ম-শৃঙ্খল,

আপন কামনা পূরণে করে কত ছল!

কেন আমি পারি না করতে প্রতিষ্ঠা ন্যায়ের,

অন্যায় দলে দিয়ে বজ্র হাতে— আমিও তো নই দুর্বল?

হোরাশিওর মতো নীরব হৃদয় ভরে

হ্যামলেটের 'করা না-করার' জ্বরে—

নীরব সাক্ষী ন্যায়-অন্যায়ের,

রয়ে যাই কেন হয়ে হীন, ধূলির চেয়েও মলিন!

প্রিয়জনের সুখ-আনন্দের আশা,

স্বপ্ন দিয়ে বুনে রাখা ভালোবাসা;

সার্থক পারি না করতে জীবনে,

আশা নিয়ে বেঁচে বেঁচে দিন গুনে,

হতে পারি না কেন সফল মানুষের ভিড়ে—

বাঁচার প্রতিযোগিতার এই ধরণীর নীড়ে।

কান্না, ক্ষুধা, বেদনা,

অন্যায়, অনাচার, করতে পরিহার—

দেখে-শুনে নির্নিমেষ, নির্বিকার,

অবসান— এক নীরব শূন্যের শেষ!

অনন্ত অন্তর্দহন—

যেখানে বিবেক জেগে থাকে,

খোঁজে মন প্রতিকার,

কিন্তু স্থবিরতা সেথায়— বিবেকের অন্তর্জলি যাত্রার!

এ কি জীবনের নিয়তি?

নাকি এ-ই অর্জুনের বিষাদ—

যেখানে যুদ্ধের আগে নয়,

যুদ্ধের মাঝেই

নিজেই নিজের হৃদয়ের কাছে পরাজিত হতে হয়?