আকাশের নক্ষত্রের সাথে
চুপটি করে বসে
আমি ভাবছিলাম
এই পৃথিবীর কথা
কি বিশাল পৃথিবী
কি বিশাল তার হৃদয়
তবু রক্তাক্ত গোধূলির মতই উদাস মনে
বুঝি আমাকেও দেখতেছে সে
এই নক্ষত্রের সাথে আমাকেও কেউ বেছে নিয়েছে হয়ত
এই সে সন্ধ্যা যে হাজার বছর ধরে নেমেছে
লোকালয় পথ প্রান্তরের
সবুজ শ্যামলিমার মায়ায়
সে নেমেছে পৃথিবীর ঘাসে শিশিরে রোদ্দুরে
পৃথিবীর সব রং গেছে মুছে
পৃথিবীর সব আলো গেছে নিভে
ক্লান্ত জীবনের সব স্বপ্ন মুছে
পৃথিবীর ধূলি কনার আদর
আমার শরীরের মেখে মেখে
শুধু আমি বসে ভাবছি নির্জনে
শালিক শ‌্যমা দোয়েল কোয়েল
পাপিয়ারা তার সাথে সাথে ফিরছে ঘরে
একরাশ স্বপ্ন বুনে বুনে
তাদের নির্জন প্রেমের স্বাক্ষরে
শুধু হুতোম পেঁচা আর বাদুড়ের
ডানায় ভর করে করে সন্ধ্যারা উড়ছে
বাতাস তখন উল্টো দিক থেকে
সমুদ্রের দিকে বয়ে চলছে
শীতলতম পৃথিবীর সব রং ছূয়ে
ফুলেরা আপন মনে সুবাস ছেড়ে দিচ্ছে
ক্লান্ত ছেঁড়া কুঁকড়ে যাওয়া ফুলের হৃদয়
কে রাখবে তাদের কথা মনে
ভালোবাসাহীনতায়
ভুলে ভরা হৃদয় অবিশ্রান্ত
কৃষান রাখাল জেলের
ঘরে ফেরার বড্ড তাড়া
তাদের সংগ্রামের শেষে
তপ্ত দিনের অবসান্ত আকাশ
শান্তির দীর্ঘশ্বাস ফেলেছে
তখন ভালোবাসার রং হয়ে আসে সন্ধ্যা
আকাশ প্রদীপ জ্বেলেছে আকাশে আকাশে
মাটি তার বুকে গেঁথেছে
এক টুকরো প্রশান্তি
অন্ধকারে হারিয়ে গেছে
গ্রাম বন নদীর নাম নিশানা
অতীতে ফিরে গেলাম
হয়ত কেউ আমাকে নিয়ে ভাববে
হয়তোবা ভাববে না
হয়ত ছূড়ে ফেলে দিয়েছে
যেমন সন্ধ্যাদের ঘনশ্যামে ছূড়ে ফেলা হয়
সেই বহ্নিজ্বালা এখনো বর্মে বর্মে
তারপর অন্ধকার পৃথিবীর মানুষ
পৃথিবীর সুখ ভোগ দম্বে তারা তৃপ্ত
অথবা চক্রান্তের দানা বেঁধে
মানুষদের মত বন্য
আমার নয়ন পল্লবের পাতায়
দিগন্ত থেকে দিগন্তে উঁকি মেরে
জানালা খুলে দেখলাম তাদের অন্তরের কালিমার লেপন
গুন ধরেছে তাদের হৃদয় অগাধ
উদাস করা পৃথিবী শুধুই আমার একার
শুধু যে বেছে নিয়েছে সে ব্যতীত