তখন তুমি আমি খুশিনীল স্বপ্নে বিভোর
সন্ধ্যা হতো মাঝ নদীতে একা' নায়ের পর
দুজনায় আর ফিরা হতো না ঘরে
ডুবিত তিতিরের পালক তিমিরে
মুগ্ধ নয়নে বাতায়ন খুলে খুলে
তিলক নয়না নায়ে দুলে দুলে
তোমার নয়নের আগুনে পুড়ে
ভেসে যেতাম দূর থেকে দূরে
পল্লব বিতানে পাখিদের কল্লোল মৃদু কথা
নরম আলোর রোমে কেটে যেত বিষন্নতা
মেঘনীল সন্ধ্যা আনোখা নদী
সখী তুমিও মোর সাথে থাকিতে যদি
এ হৃদয় কি ছিঁড়ে খেত গাঙচিল
প্রেমের আগুনে দগ্ধ হতো এ দিল
অনন্ত জলরাশিতে ভাসাতো রক্তিম ছায়া
কেঁদে কেঁদে দুটি আঁখি মাখিত মায়া
নাও চলিত দূর দূর অজানা স্রোতে
আমরা তখন অসীমের আলোর পথে
ধীরে ধীরে তিমির নামিত গোপনে
আকাশের তারা কথা কতো অধীর স্বপনে
ওই মুগ্ধ চাউনিটি মেখে মেখে
আলতো আলতো করে দেখে
আড়ালে পাখিরাও দেখিত দূরে
আমরা তখন ভালোবাসার সুরে
পাতার আড়ালে পাখিরা বাঁধিত সুর
চাঁদের নরম আলোয় আঁধার হইত দূর
বাতাস আসিত গোপনে গোপনে
আমরা দুজনায় অধীর স্বপনে
নদীর জল ছলছল করিত খেলা
নিবিড় আলিঙ্গনে কেটে যেত বেলা
অতঃপর নদীর বুকে নামিত এক মায়াবী রাত
তখন তোমার হাতে আমার দুটি হাত
জলতরঙ্গে ভাসিত স্বপ্নের তরী
তোমার প্রেমের গহনে ডুবি মরি
মেঘের ছায়া ঘন হয়ে আসে
তোমার বুক এই বুকে ভাসে
পৃথিবীর সব কোলাহল দূরে চলে যায়
দুটি মন এক হয়ে শুধু এক সুরে গায়
বাতাসের চুপিচুপি কথা আর নদীর মৃদু তান
ধীরে ধীরে তোমার প্রেমে সঁপিত মোর প্রান
কোনো পিছুটান নেই নেই ফেরার তাড়া
তোমার প্রেমে পাগলপারা
রাতের আঁধার যতোই হোক না কালো
তোমার ভালোবাসাই আমার পথের আলো
পথ দেখাত মেঘমল্লার
আমি কার ক' জনার
তোমার প্রেমে ডুবে ডুবে মরি
অনন্তকাল ধরে চলুক প্রেমের তরী