এ জীবন ছিল মোর মরুপথ
এক বিষন রকম শূন্য এক রোখা
ওগো আমার হৃদয়ের আকাশে
তুমি জ্বেলে গেলে দীপ শিখা

স্মৃতির পাতায় জমে থাকা যত
মেঘে ঢাকা ছিল অভিমানের ক্ষত
আজ ঝরে পড়ে ঝিরিঝিরি প্রেম
নতুন এ কিরন লগনের মত

আকাশ নীলের এ কূলে বসে একা
কোথা হতে দিলে এনে এ রূপের রেখা

এ হৃদয় ছিল পাখির মত অবিরাম
তবু তোমার আকাশের নীল খামে
আমি আমার নাম লিখে দিলাম

কোথাও ছিল না কোনো চেনা মুখ
তুলে দিলে বুকে একি অপরূপ সুখ

স্মৃতির পাতায় আজো জাগে এ লগন
তুমি এলে বলে জুড়ালো এ মন
হাসির আলোয় আজ ভাসাই দুচোখ
মিশে গেছে একা থাকার সকল অসুখ

চাঁদ নয় তুমি যে এক রুপালি ঝরনা
ঝরালে রাতের বুকে একি অলোর বরনা
তিমির-দিঘির ঘাটে নামালে আলো
আকাশের খোঁপায় তারা ফুলে গুঁজালো

নিঝুম বনের ছায়ে মায়াবী ধারা
অতল সুধায় আজি ডুবিল তারা
ঝর ঝর ঝরে আলো নিশীথ-গগনে
শিহরণ জাগে মোর হারা এ প্রানে

তুমি যে চাঁদ সুদূরের মিতা
আলোর দুয়ারে টানিছ মোরে
রুপালি ঝর্ণার শান্ত ধারায়
লও গো আমায় আপন করে

আকাশ-পাহাড়ের হীম শিখর হতে
আলোর প্রবাহ বহি আনি এ স্রোতে
নামিছে ধরণীর সু শ্যামল অঙ্গে
নাচিছে জল আলোর তরঙ্গে

আকাশ-গাঙের সুদূর কূলে
এনে দিল আজ বাঁধটি খুলে
উথলে পড়া আলোর ধারা
সুপ্ত মাটির নীল খামে

কোন্ মায়াবীর রূপার কাঠি
ছুঁয়ে গেল এই মাটির মাটি
নিশীথ-কালের স্তব্ধতা যে
আকুল হলো রূপার জলে

গগন বনের নীল অতলে
চাঁদ জেগেছে একা একা
তাহার গায় যে ঝর্ণা-ধারার
অলখ-ঝিলিক যায় রে দেখা

আলোক-রসের ওই ধারাটি
ধুয়ে দেয় এই ধরার-মাটি
রাতের বুকে আঁকে সে একা
গোপন মধুর লিখন-রেখা

আকাশ-গিড়ির সরোবর হতে
রুপালি ঝরনা বেয়ে
নামালে আলোর ধারা
হাসলে তুমি হাসালে মোরে
হাসালে জগত সারা
ঝরালে রূপা ঝরালে হাসি
ঝরালে মায়ার গান
চাঁদের রূপের ঝর্ণাধারায়
ভরালে তৃষিত প্রান
আলো তো নয় কোন সূদূরের মায়া
ভরিয়ে দিল আলোর স্রোতে
স্নিগ্ধ রাতের ছায়া
নয় সে আলোর কণা
নীল গগনের আঁচল বেয়ে
শুধু এক রুপালি ঝরনা

নীরব রাতে ক্লান্তিহীন পড়ছো ঝরে তায়
কখন এসে ছুঁয়ে গেলে আমারো আঙিনায়
তোমার এ আলোর স্রোতে ভেসে যায় চঞ্চল মন
কোন সে দূর হতে ছুটে আসে সুরের লগন

তোমার রূপের নদী হে চির-সুন্দরী
আমার পরাণে এসে মেশে—
আমি যেন মিশে যাই সে আলোর পর
অনন্ত রূপের দেশে

এ যেন কেবল চাঁদের আলো তো নয়
আকাশ-পাহাড় বেয়ে নামা—অতন্দ্র অক্ষয়
যার কোথাও নেই থামা
অঝোরে ঝরালে ঐ রূপালি নির্ঝর
অরণ্য, প্রাচীর, নদীর জলে
ধুয়ে যায় পৃথিবীর মলিন অন্তর
নিশীথের মায়ামন্ত্র বলে

আকাশের সুনীল অতল গহনে
জাগালে এ সুধাময়ী ধারা
রজনীর শান্ত স্নিগ্ধ নয়নে
চেয়ে রয় অনিমেষ তারা
মেঘের আঁচলখানি টানিয়া সরায়ে
তুমি আসিলে চুপিচুপি
জ্যোৎস্নার সুধা দিলে নিখিলে ছড়ায়ে
ধরণী মাতিল তোমার মুখোচ্ছবি

তোমার এ হাসি, সুদূর পিয়াসী
আমার পরানে বাজায় বাশি
নিখিল ভুবন আজিকে মেতে
ঢালিতেছ রূপের কণা
তুমি যে আকাশ-পাহাড়ের বুকে
একাকী রুপালি ঝরনা

নিস্তব্ধ রাতে কানন-বীথিকায় ঝরালে আলোর জল
পাতায় পাতায় চুপিচুপি যেন বাজিছে নূপুরদল
মোর ছায়াময় মন্থর চিত্তে
তব সুধাময় সুরের লহরীতে
ভেসে যায় আজি সকল ভাবনা
দিশাহীন, বাঁধনহারা

গগন-বিজনে একাকী জাগে আঁধার-আঁচল সারতি
অমৃত ধারায় স্নিগ্ধ করে জুড়ালে এ ধরণী-মাটি
আকাশের চাঁদরে পরশমণি রূপালী ঝর্নাধারা
চাঁদ নয় তুমি যে অমিয়-উৎস উথলে পড়া গগনে
রজনীগন্ধা আকুল হল তারি সে পরশ-লগনে
বিহ্বল চিত্তে চাহিয়া চাতক জ্যোৎস্না-সুধায় গাথিয়া
রজনী চলিছে আঁধার মুছিয়া ঝর্ণা-স্নানে মাতিয়া

ওগো আঁখি মেলে দেখি এ রজনী
আকাশের ওপারে কার ছলনা
নীল যমুনার শান্ত সলিলে
ঝরিতেছে চাঁদ--রুপালি ঝরনা

তিমির-দুয়ার খুলে নীরবে
কে ঢালিল সুধা শুভ্র আলোতে
অতল গহন অন্ধ ধরণী
ভেসে যায় ওই রূপের স্রোতে

বনের মৰ্ম্মরে নদীর কল্লোলে
ওগো শোনি তোমার বন্দনা
নিশীথ-আকাশের স্নিগ্ধ আঁচলে
উথলি উঠিল আলোর ঝরনা

তব আঁখিপাতে জাগে যে স্বপন
সে তো নহে কোনো মায়ার ছলনা
ধরণীর বুকে ঢালিছো তুমি
রুপালি ধারার নীরব ঝরনা

নিঝুম রাতে ধরণীর বুকে নামি
ধুয়ে দিয়ে যায় নিখিলের যত গ্লানি
তার সে কিরণ অমৃত-ধারা ঢালি
ভরে দেয় কবি কল্পনার শার্লি
গাছের পাতায় তৃণের ডগায় জাগে
এক অপরূপ রূপালি আলোর রাগে