তারপর হেঁটেছি চাঁদের সাথে একাকি
এক আকাশ পেছনে রাখি
থামলাম যেমন থামে বনের ভেতরের পাখি
চাঁদের পানে তাকিয়ে আমার ক্লান্ত দুটি আঁখি
তার আলো আমায় পথ দেখাল আর বাড়াল মায়া
গাছের নিচে খেলছিল কেবল আলো আর ছায়া

আধার রাতের কুয়াশা ফুঁড়ে
চাঁদ উঠেছে ঐ বন পাহাড় চূড়ে
যেন বৃদ্ধ চাষীর ভাঙা কাসতে
আকাশের বুক চিরে আসতে
রূপালী শস্য কাটে
সবুজ বনের ঘন কালো ডালে
আলোর ফোঁটা ফেলে ক্ষন কালে
সে আলোয় কোনো মায়াজাল নেই
শুধু একাকী পথের নিশানা তেই
আমি দাঁড়িয়ে আছি একা এই পথে
চারিপাশ নিঝুম চুপ

আমি দাঁড়িয়ে একলা একা এই নদীর ধারে
চাঁদের আলো খেলা করে অন্ধকার জলের পরে
গাছের মায়াবী ছায়ারা মাটিতে আঁকে অল্পনা
মনে করিয়ে দেয় জীবন — না বলা কথার গল্প না

আকাশের নীল ক্যানভাসে যে হাঁটে ঠিক
তার সাথে আমিও এক হাঁটার পথিক
তার আলোতে বনের পাতাগুলো রূপোর মত জ্বলে
যেন কোনো গোপন কথা আমায় ফিসফিসিয়ে বলে

তারপর নীল কুয়াশায় ঢাকা এক নির্জন শহরের রাতে
বাঁকা পথ ধরে হেঁটে চলি একাকী আলো-ছায়ার সাথে
শহরের প্রান্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে প্রাচীন দেবদারু
তারই ফাঁক দিয়ে উঁকি দেয় সেই রূপালী চাঁদের ছায়াচারু

রুপালি বৃত্তের আদলে কুয়াশার ওপারে একা জেগে থাকে
যেন এক প্রাচীন পথিক যে পথ ভুলেছে এই গভীর বাকেএ
ঝুলন্ত এক গাছের ডাল ছুঁয়ে ওপরে তাকিয়ে দেখি—
নীলচে কুয়াশার চাদর ফুঁড়ে উঠেছে এক দুধ ভরা সানকি

সে এসেছে আমার রোমান্টিক বাঁশির সুরে
দুর থেকে দূরে
কেবলই এক নীরব পথচারীর মত
নতজানু হয়ে দেখছে আমার সাথে
এই মাটির পৃথিবী

তার আলোয় আমি দেখতে পাচ্ছি এক পুরোনো প্রাচীর
যা আমরাই গড়েছিলাম কোন এক লগ্নের অধীর
এখন সেই প্রাচীরের গায়ে চাঁদের আলোর ছটা
আর আমাদের অলিখিত দূরত্বের কথা

আমি ভাবি এ চাঁদ কি একলা একা ক্লান্ত
নাকি সে কেবলই এক বিশ্বস্ত প্রহরী আকাশ অবসান্ত
যে নিঃশব্দে পাহারা দেয় আমাদের ফেলে আসা অতীত
আর আমাদের ঘুমিয়ে পড়া স্বপ্নগুলোর ভীত

চাঁদটা পশ্চিমে হেলে পড়ে রাত বাড়ে
তারপর ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় সবুজ বনের আড়ে
গাছের ডালপালার ঘন বুনন তাকে আড়ালে চায়
কিন্তু সে তার স্তব্ধ আলো নিয়ে একাকী দাঁড়ায়

পৃথিবীর সব কোলাহল যেখানে শান্ত স্তব্ধ
সেখানে চাঁদের আলোয় জাগে এক নতুন জগতের লব্দ

রাতের আকাশ আজ বড্ড বেশি শান্ত আর একা
বনের মাথার ওপর দিয়ে হঠাৎ পেলুম আবার দেখা
একটি রুপালি ফল যেন ঝুলছে নীল চাদরে
পুরনো বট গাছটা তাকে ছুঁতে চায় আদরে

চাঁদের আলোয় শিশির জ্বলছে হিরের মতো
মনে করিয়ে দেয় বুকে জমে থাকা কিছু ক্ষত
সে কোনো রূপকথার মায়াবী পরী বা মলয়
এবং এক নিঃসঙ্গ পথিক যার মনে নেই ভয়

আমি বললাম এই আলো কি সবার জন্য সমান
নাকি যে একা হাঁটে তারই শুধু জুড়ায় পরান
চাঁদটা হাসল যেন সুন্দর সুন্দরের সে সবই বোঝে
মানুষ কেন রাতের বেলা নিজের ছায়াকে খোঁজে

তার শীতল আলোয় ধুয়ে যায় সব চেনা কোলাহল
মাঠের বুকে জেগে থাকে শুধু ঘাসের শিশির জল
ভাবি এ প্রকৃতি কতটা নীরব ও একা--
যার বিশালতায় আমাদের এই পথ চলা শেখা