যে চাঁদ দেখেনি কি দূর্ভাগ্য হৃদয় তার
হাসিতে না জানে সে বধির নিস্ফল কথার
বুকের আঁধার চিরে আসেনা বিরহের গান
তবু নিরন্তর দুখ তার পাহাড় সমান
ভালোবাসার আকাশে চাঁদ চিরকাল হাসে
দুই প্রান্তে দুজন তবু যেন কাছাকাছি আসে
একই চাঁদের আলোর সুধা ভাগ করে দু জনে
এর চেয়ে সুন্দর প্রেম আছে কোন কাননে
সুরম্য সে জোছনা যেন ঢালু জারিত শস্যকণা
ছড়ায় শীতল শান্তির সাদা নরম আলো
তবু এ চাঁদের আলো যার হৃদয় না লাগে ভালো
বিরহের আগুন যদি মনে জ্বলে ওঠে তার
সে চাঁদকে পাওয়া তার অযোগ্যতার
নয়তো সে সাধনা করনি চাঁদকে পাওয়ার
নয়তো সে অন্ধকার জগতের— চিরকাল তার
যে চাঁদ দেখতে জানে না তার হৃদয় মরে গেছে
সে হৃদয়ে কোনো আলো নেই — আঁধার বসে আছে
স্থবির সে হৃদয় -চাঁদ পৃথিবীতে শীতল শান্তির বীজ বুনে
এর চেয়ে সুপেয় সৌন্দর্য আর কি আছে কার কাছে
হেমন্তের এই পড়ন্ত রোদসে বিকেলের শেষে
যখন কুয়াশা নেমেছে দূর নদে বনের দেশে
আমি দাঁড়িয়ে দেখি একলা একা পথের বাঁকে
গাছের পাতারা সেখানে নিঝুম ঘুমে ঢাকা
শুধু একটি পাখি শেষ ডাকটুকুই ডাকে
হঠাৎ করেই ডালপালা সব ফুঁড়ে
শীষ দিল চাঁদ এক আকাশের দিগন্ত জুড়ে
সে মায়াবী এক রূপালী বালা কেবলই একটু দূর
হাতে নিলাম তার রুপালি আলোর সুর
আমার পথটাকে চিনিয়ে দিল আরো
আমি ভাবলাম তার কি কোনো তাড়া নেই
পড়ে রয় কেবল ঐ জনহীন পাহাড়েই
সে কেন বিলায় এমন শীতল হাসি
যে আলোয় উত্তাপ নেই নেই কোনো ভয়
তবুও তার প্রেমে আমি বারবার ফিরে আসি
সে যেন এক আদিম উদাসীন পথের দৃষ্টি
দেখে জগতের সব প্রেম আর দ্রোহের কৃষ্টি
মানুষের যত ছোট ছোট অদ্ভূত চাওয়ায়
সে কেবল দূর থেকে নীরবে হেসে যায়
কুয়াশা ঘেরা মেঠো পথটা যেখানে বেঁকেছে
সেখানে আলোর ফালি এসে থমকে দাঁড়ায়
চাঁদের আলো কি পথ দেখানোর জন্য
নাকি একলা পথিকের মনকে ভোলায়
পৃথিবীর গহীন অন্ধকার আরও গহীন হয়
কিন্তু চাঁদের ওই রূপালি মায়া এক আশ্চর্য সেতু
পৃথিবী ঘুমায় তখন তার নিজের নিয়মে
আমি জেগে থাকি এক অজানা হেতু
আমার ঘরের ছোট পিপুলের জানালার ওপারে
একটি রূপালী থালা যেন ভেসে উঠে অন্ধকারে
জাদুকরী নয় কোনো মায়াবী আলোও না
সে কেবল একাকী এক যাত্রী তার পথ চেনা
গাছের পাতা ভেদ করে যেটুকু আলো পড়ে মেঝেতে
জীবনের জমাট বাঁধা হিসাবগুলো চায় মেলাতে
এই আলো কোনোদিনও উত্তাপ দেবে না আমায়
তবুও তার নীরব উপস্থিতি অদ্ভুত সান্ত্বনা যোগায়
গাছের ডালপালা তাকে আটকে রাখতে চায় বুকে
কিন্তু সে তার নিজের কক্ষপথে ঘোরে অবিচল সুখে
আমারও ঘুরতে ইচ্ছে হয় আমার একার পথে
নৈঃশব্দ্যের চাদর মুড়ি দিয়ে একলা নিজের সাথে
চাঁদটা আজ আমাকে মনে করিয়ে দেয় এক নীরব যুদ্ধ
কিছু আলো ধরে রাখতে হয় বুকে পেতে--
আমি যা কিছু পেরিয়ে এসেছি একা
পাহাড়ি কুয়াশায় নিঃসঙ্গ একাকী
যেখানে কেবলই নিজের ছায়ার সাথেই দেখা
চাঁদেরও আছে নিজস্ব সীমানা অমোঘ নিয়ম
সেও আমাদের মতো অলিখিত রীতির ধরন
রাতের আঁধারে ক্লান্তিহীন নীরব এই পরিভ্রমণ
আমি সে কবি আমি শুধু তার
আকাশের আর নিজের নিঃসঙ্গতার
আমি শুধু আমার ছায়াটিকে সঙ্গে নিয়ে পথ মেপে রাখি
কখন আসবে সে নির্জন বনের ধারে একাকী
একটি চাঁদনী রাতের গীতিকা-দ্রুতলয় বা দ্রুতিকা বা রেপ
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকৃতির কবিতা
,
প্রেমের কবিতা
পঠিত হয়েছে ২০ বার
কবি ইমদাদ শাহ্ জনপ্রিয় লেখাগুলো
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ২০২৪
৩৯৭৫ বার পঠিত
জুলাই গন-অভ্যুত্থান
২১২২ বার পঠিত
জুলাই বিপ্লব
১৮৭০ বার পঠিত
রক্তাক্ত জুলাই
১৫৪৩ বার পঠিত
জুলাই বিপ্লবের চেতনা
১৪৬৬ বার পঠিত
সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ
মহাকালের খেয়া 📜✨
— দরবেশ আল আমিন
অজানার পানে ছ...
আরো দেখুন
দরবেশ আল আমিন
লেখক:
দরবেশ আল আমিন
পৃথিবী কবিতার মতোই সুন্দর, এবং এই সৌন্দর্য দেখার জ...
আরো দেখুন
Munsora Mim
লেখক:
মেহেদী হাসান অপু
কবিতাটি সত্যিই দারুণ। এতো এতো ইমোশন দিয়ে আবৃত। প্র...
আরো দেখুন
সায়েবা
লেখক:
রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ