এইখানে সমুদ্র ঢুকে যায় নদীতে নক্ষত্র মেশে রৌদ্রে

এইখানে ট্রামের ঘন্ টিতে বাজে চলা ও থামার নির্দেশ

এইখানে দাঁড়িয়ে চার্মিনার ঠোঁটে আমি রক্তের হিম ও উষ্ণতা

ছুঁয়ে উঠে আসা কবিতার রহস্যময় পদধ্বনি শুনি— শুনি

কবিতার পাশে আত্মার খিস্তি ও চিৎকার এইখানে

অস্পষ্ট কু-আশার চাঁদ এইখানে ঝরে পড়ে গণিকার ঋতুস্রাবে

এইখানে ৩২৩ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের কোন গ্রীকবীর রমণ ও ধর্ষণের

সাধ ভুলে ইতিহাসে গেঁথে দ্যায় শৌর্য ও বীর্য এইখানে

বিষ্ণুপ্রিয়ার শরীরের নরম স্বাদ ভুলে একটি মানবী থেকে মানবজাতির দিকে

চলে যায় চৈতন্যের ঊর্ধবাহু প্রেম—সর্বোপরি

ইতিহাস ধর্মচেতনার ওপর জেগে থাকে মানুষের উত্থিত পুরুষাঙ্গ এইখানে

এইখানে কবর থেকে উঠে আসা অতৃপ্ত প্রেমিকের কামগন্ধ

কয়েকলক্ষ উপহাসের মুখোমুখি বেড়ে ওঠে আমার উচ্চাশা এইখানে

প্রকৃত প্রশ্নিল চোখে চোখ পড়লে কুঁকড়ে যায় আমার হৃদপিণ্ড এইখানে

এইখানে সশ্রদ্ধ দৃষ্টির আড়ালে যাবার জন্য পা বাড়াতে হয়

আমি নারী মুখ দ্যাখার ইচ্ছায় মাইলের পর মাইল হেঁটে দেখি শুধু মাগীদের ভিড়

সাতাশ বছর –-একা একা সাতাশ বছর বেক্তিগত বিছানায় শুয়ে দেখি

মেধাহীন ভবিষ্যৎ জরাগ্রস্ত স্নায়ুমণ্ডলীর পাশে কবিদের কবির কবিতা

চারিধারে ঢিবি দেওয়ালের নিরেট নিঃশক্ত অন্ধকার।