হেতালের লাঠি নিয়ে বসে আছি লোহার সিঁড়িতে
কালরাত্রি কেটে যাবে ভাবি, ওরা বাসর জাগুক
এমন রাত্রিতে কোনো ফণা এসে যেন না ওদের
শিয়রে কুণ্ডল করে, কেটে যাক প্রেমের প্রহর।
কিন্তু বড়ো ঘুম, এক কালঘুম মায়াঘুম কেন
কেবলই জড়ায় চোখ, অবসাদে ভরে দেয় শিরা
সমস্ত চেতনাঘেরা নাগিনীপিচ্ছিল অন্ধকারে
ঢিল হয়ে আসে মুঠি, খসে আসে হেতালের লাঠি।
তারও মাঝখানে আমি স্বপ্নের ভিতরে স্বপ্ন দেখি
দেখি ওরা হেঁটে যায় পৃথিবী সুন্দরতর ক’রে
নক্ষত্রবিলাসে নয়, দিনানুদিনের আলপথে
আর যতদূর যায় ধানে ভরে যায় ততদূর।
আমি শুধু এইখানে প্রহরীর মতো জেগে দেখি
যেন না ওদের গায়ে কোনো নাগিনীর শ্বাস লাগে
যেন কোনো ঘুম, কোনো কালঘুম মায়াঘুম এসে
শিয়র না ছুঁতে পারে আজ এই নিশীথনগরে
হেতালের লাঠি যেন এ-কালপ্রহরে মনে রাখে
চম্পকনগরে আজ কানীর চক্রান্ত চারদিকে।
কবিতা — হেতালের লাঠি
মঙ্গলবার, ০২ জানুয়ারি ২০২৪
বিবিধ কবিতা
২৮৩৭
এআই বিশ্লেষণ (মূলভাব)
‘হেতালের লাঠি’ কবিতায় কবি মনসামঙ্গল কাব্যের ঐতিহ্যকে নতুন রূপ দিয়েছেন। এখানে চাঁদ সওদাগরের হেতালের লাঠি সচেতনতা ও প্রতিরক্ষার প্রতীক। কবি নিজেকে প্রহরী হিসেবে কল্পনা করে ভালোবাসার মানুষদের কালরাত্রির নাগিনীর ছোবল এবং চক্রান্ত থেকে রক্ষা করতে চান। ঘুম বা অবসাদ সত্ত্বেও তিনি একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ এবং ভয়হীন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন।