শহরের এই নিয়ন আলোয় কোনো সত্য লুকিয়ে থাকে না,
সবই তো এক মুখোশ পরা কার্নিভালের ভিড়।
আমি আজ নিজের শরীরটাকে টেবিলের ওপর শুইয়ে দিয়েছি—
দেখতে চেয়েছি, কতটা গভীরে গেলে ওই তেইশ আর সাড়ে উনিশের ক্ষত পাওয়া যায়।
কাঁচি চালিয়ে আমি কোনো রক্ত দেখতে পাইনি,
দেখেছি কেবল এক তাল জমাট বাঁধা নীল কুয়াশা।
যেখানে কয়েকটা আলোকবর্ষ দূরে দাঁড়িয়ে ছিল এক নামহীন দীর্ঘশ্বাস।
আমি তো চেয়েছিলাম সবটুকু বিলিয়ে দিয়ে এক রিক্ত সন্ন্যাসী হতে,
কিন্তু মানুষের উপকার করতে গিয়ে দেখি নিজেরই হাত দুটো পুড়ে ছাই।
সবাই বলে বসন্ত এসেছে, বাতাসের রং নাকি আজ পাল্টেছে;
অথচ আমার চব্বিশটা বছর কেটে গেল এই মরুভূমির বালু গুনে।
কেউ কি দেখেছে সেই শকুনের ডানা ঝাপটানোর শব্দ?
যা প্রতিদিন আমার ফুসফুসের শেষ অক্সিজেনটুকু শুষে নেয়।
আমি আর ফিরতি কোনো ট্রেনের অপেক্ষা করি না,
গন্তব্যহীন এই স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকাটাই এখন একমাত্র প্রাপ্তি।
সবটুকু ফেরত দেওয়ার বিলাসিতা আমার সাজে না—
কারণ আমি তো শুরু থেকেই শূন্য ছিলাম,
তোমার দেওয়া ওই নবমীর রাতের স্মৃতিটুকুও আসলে আমার ছিল না।
জীবন এখন এক বেনামী অভ্যুত্থান, নিজের বিরুদ্ধে নিজেরই লড়াই।
আমি কোনো মিল খুঁজি না, খুঁজি না কোনো পূর্ণিমা—
আমি শুধু অন্ধকারের শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে নিজের চিতার আগুনটা মেপে দেখি;
সূর্যের চেয়েও তীব্র সেই দহন, যা আমাকে বাঁচিয়ে রাখে আর তিল তিল করে মারে।।
১৩

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন