জ্যৈষ্ঠ এলে রৌদ্র নামে আগুনের রথে,
পথের ধুলো উড়ে যায় শূন্য দুপুরের সাথে।
আম্রকুঞ্জে পাকে আম, কাঁঠালের গন্ধ ভাসে,
শৈশবের সেই দিনগুলো স্মৃতির জানালায় হাসে।
তপ্ত মাটির বুকে যেন অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস,
কালবৈশাখীর ডাকে জাগে নতুন আশার আভাস।
ঘন কালো মেঘ এসে বলে— “ধৈর্য ধরো আর একটু,”
দহন শেষে বর্ষা নামে মুছে দেয় সব দুঃখ।
জ্যৈষ্ঠ মানে কেবল রোদ নয়, সহ্য করার শিক্ষা,
জীবনের প্রতিটি কষ্টে খুঁজে নেওয়া দীক্ষা।
যেমন গাছটি দাঁড়িয়ে থাকে উত্তপ্ত দিনের মাঝে,
তেমনি মানুষ বাঁচতে শেখে বিশ্বাসেরই সাজে।
পাকা আমের মিষ্টি গন্ধ বলে নীরব বাণী,
কঠিন সময়ের অন্তরেও লুকিয়ে থাকে টানি।
দুঃখের তাপে হৃদয় পুড়ে হয় আরও দীপ্তিময়,
জ্যৈষ্ঠ শেখায়— ধৈর্যের শেষে নিশ্চিত আসে জয়।
আজও যখন জ্যৈষ্ঠ আসে বাংলার আঙিনায়,
মন ফিরে যায় শৈশবের সেই সোনাঝরা ছায়ায়।
রৌদ্র, ঝড় আর ফলের ঘ্রাণে ভরে ওঠে প্রাণ,
জ্যৈষ্ঠ তুমি বাংলার হৃদয়, তুমি জীবনের গান।