যদি আবার দেখা হয়
চৈত্রের সেই দাবদাহে,
আম্রছায়ায় —
মুকুল ঝরে পড়ে সবে,
গন্ধ যায়নি মুছে যবে
ফুলের শাখায়।
সবুজ-হলুদ কচি পাতায়
মৌমাছিরা এসে গান গায়,
আবার ফিরে যায়।
মুকুলের মধু অন্বেষণে,
মেতে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে
সেই আমের ছায়ায়।
পুরোনো সেই কথাগুলি
নিয়ে ভাবনার রঙতুলি
ছবি আঁকে নির্ভুল;
খোঁপার সেই সোনালি ফুলগুলি,
ভালোবেসে কথা বলে প্রাণখুলি —
সুবাসভরা বকুল!
নিশির নেশায় দেখা স্বপ্ন
ঘুমের ঘোরে হৃদয়ে যদি
সত্য হয়ে যায়;
চোখের দেখা যত ছায়া,
মুদিত আঁখিতেও মায়া —
তবুও সত্যি হয়।
ঘুমভাঙা প্রভাতের সুবাস
খোঁজে রাতের ঝরা কুসুম —
বিরহের কাননে;
সময়ের অনির্বাণ স্রোতে
অস্তিত্ব লীন হয় অপ্রকাশে,
সময়ের ধূসর মনে।
স্থায়িত্বের এক-এক বিন্দু
ক্ষণে ক্ষণে সময়ের সরণে
আবছা হয়ে যায় —
চিরতরে মুছে যায় আঁখি হতে,
অন্ধকারের কোণে নিঃশব্দে
অসীমের ধারায়।
প্রতিটি দেখা আসে একবার,
মুহূর্ত ফেরে নাকো বারবার;
শুধু প্রতিটি মিলন,
সময়ের বুকে এঁকে দিয়ে যায়
অস্তিত্বের আলোহীন স্বাক্ষর,
সাক্ষী হয় মন।
সেদিনের তুমি মিথ্যে নও —
তুমি ছিলে তেমনি সত্য
সেই এক মুহূর্তে;
আজও তুমি যেমন সত্য,
আজকের সময়ের পারে,
কালের আবর্তে।
যা চলে যায়, মুছে যায় না;
কালের বক্র খাঁজের মাঝে
অতীতে রয়ে যায়।
স্বপ্ন যেমন সত্য নিশির নিশায়,
অতীতও তেমনি নিরেট সত্য
কালের পাতায়।
হৃদয় অতৃপ্ত রয়ে যায় —
অস্তিত্ব অদৃশ্য যেথায়,
এ যে সৃষ্টির মায়া;
ভেঙে সময়ের পার,
ধরা দেয় না আবার
কোনো মুহূর্তের কায়া।
তাই চৈত্রের শুকনো ফুলের গন্ধে,
আজও আছে সেই দিন একান্তে;
চোখে আজ অস্তিত্বহীন,
তুুমি হয়নি অসত্য;
বেঁচে আছে স্মৃতির অতল গভীরে —
সময়ের পারে লীন।