সময় যদি ফিরে লেখে নিজেরই বিধান,
জীর্ণ দিনের ধুলো হতে জেগে ওঠায় প্রাণ;
ঝরে-পড়া পাতা সব আবার যদি
সবুজে শ্যামলে তরুশাখা ভরে তোলে,
তবে কি হারানো সময় ফিরে পায় স্পন্দন?
চারা থেকে বৃক্ষ, ফুলে-ফলে ভরা,
শেষে শুষ্ক কাঠ — শুধু ঘুণে ধরা;
যদি সেই কাঠেই আবার
ফুটে ওঠে কচি পাতা গাছে,
সময় কি তবে হার মানে নিজেরই কাছে?
হারানোর বেদনা কার মুখে হাসি রয়?
বুকের গোপন কান্না কভু কি মুছে যায়?
যদি সত্যিই ফিরে আসত —
মৃত্যুর বদলে জীবনের ঋতুচক্রে একটাই প্রাণ ,
পৃথিবী স্বর্গের চেয়েও হতে বেশী মহীয়ান ?
আর যদি তুমি আর আমি
ফিরে পেতাম সেই কৈশোর হেথা,
দুরুদুরু বুকে, চোখে চোখ রেখে,
নীরবতায় জমে থাকা কত কথা!
চুপি চুপি দেখা, চোখে চোখ রাখা,
প্রথম লাজে রাঙা মুখ —
আজও কি তারা অপেক্ষায়
সময়ের ওপারে হয়ে উন্মুখ?
হারাতে চায় না মন
নিজের চেনা মুখ, রূপ যৌবন,
প্রিয়জনের ডাকে জেগে ওঠা নরম সকাল।
কালের ঘুণ
নিঃশব্দে কুরে কুরে খেয়ে যায়
শুধু দেহ নয় —
স্বপ্ন, স্মৃতি, হৃদয়-মন।
তবু মানুষ
প্রতিটি ভোরে আবারও বিশ্বাস করে —
কোনো এক সুখের বসন্তে
সব হারানো আবার আসবে ফিরে।