যদি বদলে যায় কালের নিয়ম, পুরাতন নবীনে হয় পুনরাবর্তন,
পুরাতন ছেড়ে সময়ের পার,
নবীন রূপে ফিরে আসি আবার—
কালের নিঃশ্বাসে হারানোর দ্বারে থাকা জীর্ণ, অসহায় পুরাতন।
যদি আবার ফিরে পাই নবীন জীবন, কিন্তু নব জন্মের নয়,
চারা থেকে ধিকি ধিকি বেড়ে
হয়েছিল বৃক্ষ ফুলে-ফলে ভরে;
শুষ্ক কাঠ হয়ে সময়ের পেশিতে ক্ষয়ে মিশে যেতে অপেক্ষাময়।
যদি আবার শুষ্ক তরু হতে পারে কোমল চারা নব কলেবরে,
আগেরই মতো সুন্দর অতি,
ধীরে ধীরে হয় ফুলফলবর্তী;
হোক না এমনি কিছু উলঙ্ঘন, কালের ভীষণ অমোঘ নিয়ম!
হারানোর বেদনা বুকফাটা কান্না, হাসি মুখে কেবা করে সামনা?
যদি সত্য হয় এই বিপ্রতিম কল্পনা,
আনন্দের তো থাকবে না সীমানা!
যদি এমন সত্য হতো, পৃথিবী স্বর্গ হতে হতো অনেক বেশি ঈপ্সিত।
যদি আমি আর তুমি ফিরে পাই সেই সময় আগেরই মতো,
শৈশব পেরিয়ে তেমনি যৌবন,
আবার কত যে মধুর আলাপন—
ভীরু চোখে, দুরু দুরু বুকে, লাজে রাঙা চোখে চোখ রেখে।
শৈশবের আনন্দ ছেড়ে, কৈশোরের ডাক নীল আকাশের পারে,
আবার তোমারে ছলে করে দেখা,
লুকিয়ে ফুল বনে যাওয়া একা একা—
যদি ফিরে যাই সেই সময়ে মধুময় কৈশোর-যৌবন মাঝারে?
মানুষের চির আকাঙ্ক্ষিত রূপ, যৌবন, প্রিয়মুখরিত সুখের ভুবন,
পারিজাতের মতো সুবাসিত জীবন—
চায় না হারাতে তনু, চির শঙ্কিত মন;
কালের ঘুণ খেয়ে যায় অন্তর হতে, নির্নিমেষ অদৃশ্য ক্ষয়িষ্ণু স্রোতে।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন