কি ভাবছো তুমি অপরূপা—
চিরদিন রয়ে যাবে অধরা?
খুশি হতে চেয়েছিলেম
শুধু তোমার ছোঁয়াটুকু নিয়ে—
মনে প্রাণে রয়ে আপামর,
আমি এক কায়া-লিপ্সু নর।
মিশে গেছি কবে সেই
পৃথিবীকে দেহটুকু দিয়ে,
হয়নি পূরণ বাঁধিবার ঘর—
এই ধরণীতে অবিনশ্বর।
তোমার সেই যৌবনের অপরূপ—
জ্যোৎস্নার মতো মনোহর রূপ,
একে দিয়েছিল বোধহয়
এসে কোনো এক স্বর্গের দূত;
অমন তনু, আনত ডেকে অতনু,
আতর ছড়িয়ে হৃদয়-আকাঙ্ক্ষার;
যে পথ দিয়ে তুমি চলে যেতে—
পার্থিব ইচ্ছা উথলে উঠত মেতে;
আজও আসে ক্ষীণ মনে—
লুপ্ত হৃদয়ের কোণে কোণে।
তোমার সুন্দর আঁখি দুটি,
আকাশ ছাড়িয়ে দেখত চেয়ে
সুদূরের কত যে নীহারিকা—
তবু বুঝেনি তারারও শেষ হয় শিখা।
মাটির অপরাজিতা থাকত চেয়ে—
সখী হতে প্রভাতে শাখাতে ফুটি।
সেই কবে আমার মিটে গেছে
অস্তিত্বের সব চিহ্ন ক্ষয়িষ্ণু ধরায়—
ভাবছিলাম আজ প্রিয় অপরূপা,
খোঁজ নিয়ে দেখি তুমি কোথায়?
যেই সুতনু বুকে মাথা রেখে—
সুখের স্বপ্ন জ্যোৎস্না মেখে,
আনন্দে ভরে যেত হৃদয়—
উঠেছে জেগে চারা লতা ঘাস,
বসন্তের বাতাস করে হাহুতাশ,
আর চোখের ওপর শুধু নীলাকাশ।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন