তার স্মৃতি প্রখর। তাই যখন মাঝরাত্তিরে গাঁক গাঁক করে মোটর সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরে গুরা, গ্রামের শেষ নবাব, আর তার বড়সড় চেহারার কারণে তারাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আকাশের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকে দুখি চাঁদ, তখন তার মনে পড়ে কিশোরীর সাজি থেকে তার বুকের ওপরে টুপ করে খসে পড়া শিউলি ফুলের কথা। মনে পড়ে ট্র্যাক্টরের চাকার তলায় পিষে যাওয়া ছাগলছানাটির বিস্ফারিত দুই চোখ আর ড্রাইভারের মুখ-নিঃসৃত অদ্ভুত ‘চু চু চু’ আক্ষেপ। মনে পড়ে ইয়াসিন আর লক্ষ্মীকেও। গুরার মোটর সাইকেল চলে যাওয়ারও অনেক পরে আলো ফোটবার আগেই যারা গ্রাম ছেড়েছিল। আর মনে পড়ে সেই কতদিন আগেকার ঠ্যাঙাড়েদের কথা, হাঁটুর ওপরে যারা পরে থাকত ধুতি আর ওঁৎ পেতে থাকত শিকারের জন্য। তারপর এল প্রসন্ন মাস্টার। স্কুল হল। বুড়ো অশথ পড়ে গেল। মনে পড়ে। তার সব মনে পড়ে। যা যা সে দেখেছে–সব মনে আছে তার। তবে কোনও কিছু নিয়েই তার বাড়তি কোনও আগ্রহ বা কৌতূহল নেই। শুধু এক একদিন গুরার মোটর সাইকেল চলে যাওয়ার পর তার জানতে ইচ্ছে করে শহরে কেমন আছে লক্ষ্মী আর ইয়াসিন। বাহ রে! পথের স্মৃতি থাকবে আর মন থাকবে না?
৫১

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন