হে পাহাড়, আমার ভালবাসার পাহাড়
তোমায় একবার দেখলে
সারাক্ষণ দেখতে ইচ্ছে করে,
তোমায় দেখার সময় ----
সময়ের হিসেব করতে ভালো লাগে না
মনে হয় দিনরাত সব পেরিয়ে যাক ----
ওসবে আমার চিন্তা নেই ----
আমি শুধু তোমায় দেখে যাব।
তোমায় দেখলে আমার
খিদে ঘুম সব কোথায় চলে যায় ----
পেটের খিদে আর কতটুকু
আসল খিদে তো মনের ----
মন দিনের পর দিন অভুক্ত থাকলে
একসময় মানসিক ব্যাধি দেখা যায়
সে বড়ো সাংঘাতিক ব্যাধি
তাই তোমায় দেখে
আমার চোখের খিদে মেটার সাথে সাথে
মনের খিদেও মেটে
সেই খিদে মিটিয়েই আমি শান্তি পাই,
তোমার ঐ সুউচ্চ চূড়ার দিকে তাকালে ----
কেমন সহজেই আকাশ ছুঁয়েছ তুমি ----
এসব ভাবলে ঘুম আসে না চোখে।
তোমার বিস্তৃতি আমার সারা মন জুড়ে
তোমায় ছাড়া আমি পারব না বাঁচতে,
এই যে ঘন ঘন সফরে বের হই
এ তো তোমাকে দেখার টানেই।

তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা
বড়ো অদ্ভুত ধরনের ----
তোমার কাছে যাওয়া,
তোমার দিকে তাকিয়ে থাকা,
তোমার কথা ভাবা ----
এসবের মধ্যেই যেন আমি এক শান্তি খুঁজে পাই,
এক অন্য রকমের শান্তি
যা হয়তো সকলে বুঝবে না।
তোমার এই অপরূপ বিশালতা ----
তোমার অঙ্গে থাকা গাছপালার ফাঁকে ফাঁকে
যেন আমার মন পড়ে থাকে ----
ঐ নিবিড় অরণ্যের ভেতরে কোথাও আমার মন হারিয়ে যায়
আর যেন ফিরে আসতে চায় না ----
মন বলে, হারিয়ে গেছি, বেশ হয়েছে,
এই পাহাড়ের মধ্যেই থাকব ----
এই ঘন জঙ্গল দেখব ----
কেমন করে সূর্যের আলো অজস্র গাছের অগুনতি পাতার ফাঁক দিয়ে নেমে আসে ----
কেমন করে কোন্ দূর থেকে
কোনো এক নাম না জানা পাখি ডেকে ওঠে ----
এসব শুনব ----
শহরের কোলাহল, বিষাক্ত ধোঁয়ার মধ্যে থাকব না।
আমার শরীরের প্রতিটি রুধির বিন্দু জেনে গেছে যে, এই আমি, প্রতিক্ষণ তোমার কথা ভাবি।
তাইতো তোমাকে বলি ----
হয়তো এমন একদিন আসবে
যেদিন আমি ঘর সংসার সব ছেড়ে
তোমার কাছে চলে আসব,
এসে তোমার ঐ গহিন বনের মধ্যেই
বসবাস শুরু করব।

--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী