নিজেকে ভেঙেচুরে উজাড় করেও
যার বারান্দায় পড়ে থাকে
একজোড়া হাওয়াই চপ্পল—
সে জানে, প্রেম মানে
পা রাখার জায়গা নয়,
প্রতিদিন খালি পায়ে ফেরার অভ্যাস।
যে পাখির মতো উড়ে বেড়ায় দিগন্তব্যাপী,
সাগরের সঙ্গে যার আত্মীয়তা—
তাকে ছুঁতে পারে এমন শালিক কই!
সব শালিকই তো আজ
ক্ষমতার চালের ওপর বসে
ডানা মেলে ছবি তোলে।
আব্বাসউদ্দিনের ভাটিয়ালী সুরে
মনভোলা ঠোঁট নারায়
শূন্য দুপুরে—
কিন্তু সেই সুরের ভেতরেই
চুপিসারে ঢুকে পড়ে
ক্ষুধা, বেকারত্ব, প্রতিশ্রুতি ভাঙার শব্দ।
প্রেম ছিল—
কিন্তু প্রেমের নামে
আমাকে শেখানো হয়েছিল সহ্য করতে,
চুপ করে থাকতে,
অপমানকে কবিতা ভাবতে।
একদিন দেখলাম,
প্রতারণা শুধু দু’জন মানুষের নয়—
পুরো সমাজটাই
আমার ভালোবাসাকে ব্যবহার করেছে
শ্রম বানিয়ে,
শরীর বানিয়ে,
ভোট বানিয়ে।
দূরে, বহুদূরে ভেসে আসে
মৈশাল বন্ধুর বাঁশির সুর—
সে বাঁশি আর প্রেমের ডাক দেয় না,
সে ডাকে রাস্তায় নামতে,
সে ডাকে প্রশ্ন তুলতে।
সব কবিতা ঘুমিয়ে পড়ে না—
কিছু কবিতা জেগে ওঠে
নিস্তেজ বিদ্রোহ ভেঙে
আগুনের ভাষা শিখে নেয়।
আর তখন
হাওয়াই চপ্পলজোড়া
শুধু বারান্দায় পড়ে থাকে না—
সে হাঁটে রাস্তায়,
মিছিলের প্রথম সারিতে।

কবিতা - দুপুরবেলার ভাওয়াইয়া সুর আর আব্বাসউদ্দিন
আজিজুল হক
সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশাত্মবোধক কবিতা, বিদ্রোহী-দ্রোহের কবিতা
৪

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন