ধানসিঁড়ির ধূসর বিকেলে
যখন কুয়াশা নেমে আসে পাখির ক্লান্ত ডানায়,
আমি দূর কোনো শৈশবের ভিতর
মায়ের মুখ খুঁজে পাই।
তিনি যেন নদীর পাড়ে রাখা
পুরোনো প্রদীপ,
ঝড় এলেও নিভে যান না পুরোপুরি,
শুধু আলোটা একটু নরম হয়ে আসে।
অভাবের সংসারে
মা যেন এক অনার্য বৃক্ষ!
নিজে রোদে পুড়ে থেকেও
আমাদের জন্য ছায়া ফলাতেন।
রাত্রে ঘুম ভেঙে গেলে
দেখেছি,
জানালার পাশে বসে তিনি
অন্ধকার সেলাই করছেন!
যেন পৃথিবীর সব দুঃখ
সুঁই-সুতোর ভিতর আটকে রাখবেন বলে।
আজ এত মানুষের ভিড়ে,
এত শহরের ধোঁয়ায়,
এত সভ্যতার শব্দে
হঠাৎ মনে হয়,
পৃথিবীতে সত্য বলে যদি কিছু থেকে থাকে,
তবে তা কোনো দর্শন নয়,
কোনো ঈশ্বরও নয়—
মায়ের নিঃশব্দ মুখ,
যেখানে ক্লান্ত চাঁদের মতো
অপেক্ষা জেগে থাকে।
…… ……
