তার নিঃশ্বাসে লবণের গন্ধ,
তার কপালে জোয়ার-ভাটার শিরা-উপশিরা।
রক্তমাংসের ভূগোলে গড়া
তার প্রতিটি শ্বাস – প্রশ্বাস।
আমরা তার গায়ে সেলফির আলো ফেলি,
তার গর্ভে ঢুকিয়ে দিই লোভের ড্রিল!
তার সন্তানরা উর্বশীর ঢঙে পাচার হয় সোনাগাছির উর্বর জমিতে
কিংবা বান্দর বনের নোংরা আবর্জনায়।
তার প্রকৃতিতে বিষ বপন করি বন্দুকের শব্দে,
তার নদীর শিরায় বিষ ঢালি উন্নয়নের নামে।
তারপর বলি—
“ভালোবাসি।”
এই ভালোবাসা
মুখোশ পরে আসে,
রাষ্ট্রের সিলমোহর কপালে নিয়ে।
সে ভালোবাসা নদী চেনে না,
গাছের আর্তনাদ শোনে না,
শুধু প্রকল্পের নীল নকশায়
সবুজকে কালো করে দেয়।
বেকসুর মানুষের উপর নেমে আসা
নির্ভেজাল রাষ্ট্রীয় অত্যাচার।
আমাদের দেশের মানুষগুলো—
কাদামাটির মত নরম,
তবু তাদের বুকের ভেতর
একটি অরণ্য লুকিয়ে আছে।
সেই অরণ্য জানে—
প্রেম মানে কেবল হাত ধরা নয়,
প্রেম মানে দাঁড়িয়ে যাওয়া
বাঘের চোখের সামনে,
নদীর পক্ষে,
বৃক্ষের পক্ষে,
অবহেলিত মানুষের পক্ষে।
তবে গোলাপ ছিঁড়ো না—
একটি চারা রোপণ করো বিদ্রোহের।
ভালোবাসো এমনভাবে,
যাতে কোনো পশু নির্বাসিত না হয়!
কোনো জঙ্গল রাষ্ট্রের নীল নকশায় যেন
মৃত্যুদণ্ড না পায়।
কারণ প্রেম
যদি বিদ্রোহ না হয়,
তবে সে কেবল সাজানো উচ্চারন।
….

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন