অতলান্তিক নিরবিচ্ছিন্ন মৌনতায় আমি কোনো ভাটিয়ালি নই,
সবুজ ডাঙার মায়া ছেড়ে সঁপেছিলাম এই অস্থির নোনা শরীর;
জানি, সমুদ্রের বিশালতা কেবলই এক নিঃসঙ্গ বিলাস—
তবুও অজানার মোহে ভাসিয়েছিলাম আমার মাটির পাঁজরের তরী।
আমি তো জানতাম না ঢেউয়ের ভাঁজে লুকানো থাকে ওটিস্টিক বিদ্রুপ।
জানতাম না সাঁতারহীন দেহ কতটা অসহায় এই ফেনিল মায়ায়!
যখন তোমার খেয়ালি স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছিলাম অতলে,
আকাশপানে তোলা সেই কম্পিত হাতগুলো কি তোমার চোখে পড়েনি?
নাকি জলদস্যুর মতো তুমিও মেতেছিলে আমার হাহাকারের উৎসবে!
যখন লোনাজলে ফুসফুস আমার হাতড়াছিল এক চিমটি শ্বাস,
তুমি ছিলে নিস্পৃহ পাষাণ, চোখে ছিল তৃপ্তির কারুকাজ।
বারবার হাত উঁচিয়ে চেয়েছি এক বিন্দু আশ্রয়ের ছায়া,
তুমি ফেরাওনি মুখ, কেবল বিলিয়েছ ছলনার মায়া।
আজ বুঝি বেলাশেষে অনুরাগের চিতা জ্বলেছে তোমার মনে?
ফিরে পেতে চাও সেই আমাকে— এই বিজন অকাল ক্ষণে!
শুনেছি সমুদ্র নাকি ফেরত দেয় সুদ আসল সব ঋণ,
কিন্তু সে কি ফেরাতে পারে সেই হারানো স্বপ্ন রঙিন?
হ্যা-হ্যা- হ্যা সমুদ্র ফিরিয়ে দেয় সব,তার কোনো দায় নেই;
তবে জেনে রেখো, সমুদ্র যা ফেরায় তা কেবলই জীর্ণ অবশেষ।
নোনাজলে ভিজে পাথুরে হওয়া এক নিথর মাংসখণ্ডই পাবে তুমি,
যেখানে হৃদস্পন্দন নেই, আছে কেবল লবণের তীব্র দহন।
আমি ফিরব ঠিকই, তবে প্রাণের স্পন্দন নিয়ে নয়—
স্রোতপ্রান্তের বালুচরে পড়ে থাকা এক নির্বাক মৃত লাস হয়ে।
কবিতা - নির্বাক মৃত্ লাস হয়ে
বিদ্যুৎ বরণ বারিক
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
বিরহের কবিতা, সাম্য-জীবনমুখী কবিতা
৯
