গোধূলীর বিষন্নতার মতো আমি পড়েছিলাম
সবার অলক্ষে। আমাকে ছুঁয়ে কত নদী মরে গেল
নিখাঁদ বিরহে, কত মুখ হারিয়ে গেল মুখের
মিছিলে, কত মায়ামী মুখোশ শুনিয়ে গেল জীবনের
গান-যাপনের প্রহসনে।কতদিন, কতবার ‘নিদারুন অবহেলা’
পরিহাস করে গেছে আমার নিঃসঙ্গতাকে। আমি গলে
যাওয়া শবের মতো, নিভে যাওয়া মোমের মতো, স্মরণের
আয়না থেকে বিস্মৃত হয়ে যাওয়ার মতো
হারিয়ে গিয়েছিলাম নিঃশব্দে, পাথুরে অভিমানে।

পথে যেতে যেতে, আমাকে দেখে
তুমি কী ভেবে, থমকে দাঁড়ালে। স্বপ্নরেণু উড়লো
হাওয়ায়,স্বর্গ দুয়ার খুলে দিল বুঝি ‘নিয়তি’, আড়ালে!
তুমি এক ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিলে আমার চোখে জমে
থাকা জমাট অন্ধকার। আমি জেগে ওঠলাম
হাজার পর, কাঁপছিল আমার অধর! তুমি
তখন তোমার দু’ঠোঁট রাখালে আমার ঠোঁটে। ভাবলে
না তো, তা পূন্য কিনা পাপ। তোমার প্রেমে
ঘুচলো আমার পাষাণ অভিশাপ!