“না পোড়াইও রাধার অঙ্গ
না ভাসাইও জলে
মরিলে তুলিয়া রাখো
তমালের ডালে”
সাতসকালে রাই এর মুখে
এমন অলুক্ষণে কথা শুনে
বাক্যহারা বৃন্দা
কুঞ্জের ভিতরে নিশ্চুপ সবাই
কুঞ্জের বাইরে যে পাখিরা মেতেছিল কলতানে
তারাও গেল থেমে ,
খানিক পরে বৃন্দা শুধালে ,
তুই এসব কি বলিস রাই
মরণের কথা কেন বলিস তুই
কি হয়েছে তোর বলবি তো।
রাই বললে,আমার আর বলার মতন নাই কিছুই
তোরা তো ভাই জানিস সবাই
কানুর প্রেমের আগুনে
এ দেহ খাক হয়ে গেছে পুড়ে
মরণের পরে তোরা একে আর
পোড়াস না আগুনে
মরণের পরে
বেঁধে রাখিস তমালের ডালে
যমুনার তীরে তমালের ডালে বেঁধে রাখিস ।
বৃন্দা বললে,তোকে একটা কথা শুধাবো রাই
বৃন্দাবনে যমুনা তীরে এত গাছ থাকতে
তুই কেন বললি তমালের কথা ।
রাই উদাস হয়ে বললে ,আমার কানুও যা তমাল ও তা ।
বৃন্দা বললে ,তোর এসব হেঁয়ালি কথা
বুঝতে পারি না কিছুই ।
রাই বললে ,এর ভিতর হেঁয়ালি আবার পেলি কোথায় ।
এসব ভালোবাসার কথার ফাঁকে কুঞ্জে ঢুকলে ললিতা,
সে রাই কে দেখে চমকে উঠে বললে ,
তুই এখানে ,
তোকে আমি খুঁজে বেড়াচ্ছি সারা বৃন্দাবনে
ইস কী দশা হয়েছে রে তোর !
মেঘ থমথমে মুখে কোনো কথা বললে না রাই
ভাঙ্গা গলায় বৃন্দা বললে ,কি আর বলব ললিতা
যা দেখছি রাইয়ের এখন দশম দশা
কানু বিরহে রাইয়ের এখন মরণ দশা ।
ললিতা বললে ,মরণ এত সোজা নয় ভাই
কথাটা তুই শুনে রাখিস রাই
কানু কে ভালবেসে
মরণ একবার হয়েছে তোর
এক জীবনে দুবার মরণ হয় না কারো ।
এবার বিরহিনী রাই বললে ,তোদের এসব বাঁকা কথা
ঢের শুনেছি ভাই
এবার আর না
এবার যা বলার সে বলেছি বৃন্দা কে
“না পোড়াইও রাধার অঙ্গ
না ভাসাইও জলে
মরিলে তুলিয়া রাখো
তমালের ডালে “।
রাইয়ের কথা শুনে হাসলে ললিতা ,
বললে ,এত তমাল তমাল করিস কেন রাই
তুই কি কিছু জানিস
তমালের ডালে কাদের বাসা জানিস
ভালো করে শুনে রাখ
তমালের ডালে কাকেদের বাসা
কাকেরা যদি খেয়ে ফেলে তোর মরদেহ
তখন কানু এলে আমরা কি বলবো কানুকে।
ললিতার কথার পরে
কথা যেন সাজানো ছিল রাইয়ের
সে বললে ,ওই নিয়ে তোদের ভাবতে হবে না ভাই
তার ভাবনা ও ভেবে রেখেছি আমি
তমালের ডালে কাকেরা এলে
আমি পায়ে ধরে মিনতি করে
বলবো তাদের ,
ও কাক
দোহাই তোমাদের
তোমরা খেতে পারো
আমার সর্ব অঙ্গ খেতে পারো
শুধু চোখ দুটি খেও না গো
তোমরা চোখ দুটি খেও না ,
বৃন্দাবনে কানু এলে
আমি ওই চোখ দিয়ে দেখব কানু কে ,
একটিবার
শুধু একটিবার
আমার কানু কে দেখব ।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন