চাঁদের কাছে আমি কিছু লুকাইনি—
শুধু বলিনি ঠিক কোন রাতে তোমার চোখ ফাঁকি দিয়ে চুপচাপ সরিয়ে নিয়েছিলাম নিজেকে।

​চাঁদ জানত, সে নীরবতা কতটা গভীর,
জানত, নিস্পন্দ কোনো এক মোহে তুমিও তাকিয়ে ছিলে—
হয়তো দেখতে চেয়েছিলে, আমি কতটা অবলীলায় একা হতে পারি।

​সে রাত ছিল না কোনো বিশেষ রাত্রি—না পূর্ণিমা, না অমাবস্যা;
তবু সেখানেই নিঃশব্দে থমকে গেল আমাদের দুটি জীবনের গল্প।

​তুমি ডাকোনি পিছু, আমিও চেয়ে দেখিনি আর,
তাই কি এখনো প্রতিটি জোছনায় গা ছমছম করে ওঠে?

জোছনায় ভেসে আসা সেই নীল বেদনার রাতে,
​চাঁদের কাছে আমি চেয়েছি এক সমুদ্র দূরত্ব;
চেয়েছি তুমি যেন ভুলে যাও আমার মুখ—
অথবা তোমার চোখে যেটুকু আমি রেখে এসেছি,
সময় তাকে ঝাপসা করে দিক ধোঁয়াটে আলোর মতো।

​তুমি হয়তো জানো না—কেউ কেউ ভালোবাসে খুব গোপনে,
তবে চলে যায় ভীষণ অবেলায়, কোনো শব্দ না করে।

​আমাদের মাঝখানে যেটুকু আকাশ ছিল, তা এখন ধূসর কুয়াশা;
যেখানে হৃদয়ের আলপনা মুছে গেছে অনেক আগেই।

​বিস্মৃতির আড়ালে হারিয়ে গেছে আমাদের সেই সব কথামালা,
যেখানে ব্যাকরণ ছিল শুধু হৃদয়ের, আর ছন্দ ছিল কেবল নিঃশ্বাসের।

​নক্ষত্রেরা সাক্ষী রইল—আমি কোনো অভিযোগ রেখে আসিনি,
বয়ে এনেছি কেবল এক বুক শূন্যতা আর কিছু না-বলা কথা।

​তুমি যখন একা বারান্দায় দাঁড়াবে কোনো এক মেঘলা বিকেলে,
দেখবে আকাশটা ঠিক আগের মতোই আছে, শুধু চেনা রঙটা নেই।

​আমি বাতাসের কানে কানে বলে দিয়েছি—
সে যেন তোমার জানালায় গিয়ে আর আমার ঘ্রাণ না ছড়ায়।
​মলাটহীন সেই বইয়ের ভাঁজে যে শুকনো ফুলটা ছিল,
তাকেও বলে দিয়েছি—সে যেন আর আমাদের গল্প না শোনায়।

​আমি তো এখন এক যাযাবর পথহারা, যার কোনো ঠিকানা নেই,
যে মিশে গেছে দিগন্তের সেই পথে, যেখানে আলো আর আঁধার মিলেমিশে একাকার।

​সেই ধোঁয়াটে জ্যোৎস্নার আলোতেই বিলীন হোক আমার ছায়া।
যেন আয়নায় তাকালে তুমি নিজের প্রতিবিম্ব ছাড়া আর কাউকেই খুঁজে না পাও।