সময়ের ভেতর কিছু কথা থেকে যায়—
যা বলা হয় না, তবুও হৃদয়ের ভেতর লেখা থাকে চিরকাল।
—
রাতটা খুব নরম, জানালার পাশে বসে আছে সুমি।
বাইরে ঝিরঝিরে হাওয়া, কোথাও দূরে একটা ট্রেনের হুইসেল বেজে উঠছে।
সেই শব্দে মনে পড়ছে অনেক পুরনো সন্ধ্যা—
যখন ঠিক এমন এক রাতে কেউ বলেছিল, “তুমি চিঠি লিখো না কেন?”
বহুদিন পর আজ কলম ধরেছে সুমি।
কাগজটা সাদা, কিন্তু তার উপর জমে আছে অসংখ্য অপ্রকাশিত শব্দ।
চিঠিটা কারও নাম ছাড়াই শুরু—
তবুও যার জন্য লেখা, সে জানে না, আজও কেউ তাকে মনে রেখেছে।
“তুমি কেমন আছো?”—
এই চারটি শব্দ লিখতে গিয়েও থেমে যায় সুমি।
কারণ এ প্রশ্নের উত্তর কোনো চিঠিতে পাওয়া যায় না।
এটা কেবল চোখের ভাষায় বোঝা যায়,
যেখানে উত্তরটা সবসময় নীরব থাকে।
চিঠির প্রতিটি লাইন যেন একেকটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস,
একেকটা না বলা ভালোবাসার গল্প।
সে লিখছে—
“তুমি যদি জানতে, আমি এখনো তোমার জন্য নীরব আছি…
সময় থেমে গেছে তোমার চলে যাওয়ার মুহূর্তে।
অথচ পৃথিবী এখনো ঘুরছে, কিন্তু আমার ভেতরটা আর আগের মতো নয়।”
শেষ পর্যন্ত চিঠিটা সম্পূর্ণ হয় না।
একটা দাগ টেনে থেমে যায় হাত,
চোখের কোনায় জমে থাকা জল কাগজে পড়ে যায়,
অক্ষরগুলো ঝাপসা হয়ে যায় মেঘের মতো।
সুমি চিঠিটা ভাঁজ করে পুরনো বইয়ের ভেতর রেখে দেয়।
বইটা হয়তো কোনোদিন আর খোলা হবে না,
কিন্তু সেই পাতার ভেতরে জমে থাকবে
অজানা কারও প্রতীক্ষা, এক নীরব ভালোবাসার গন্ধ।
বছর কয়েক পরে হয়তো কেউ সেই বই খুলবে,
চিঠিটা পাবে,
আর ভাববে— “এমন অনুভূতি আজকাল কেউ লিখতে পারে?”
—
🌾
“সব ভালোবাসা শেষ হয় না,
কিছু শুধু চিঠির মতো থেমে থাকে—অপাঠিত।”

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন