আমাকে দুঃখের কথা জিজ্ঞেস করলে
আমি একটি মেয়ের নাম বলি।
অভাবের কথা জিজ্ঞেস করলে
আমি আবারও সেই নামটিই বলি—
যেন একজন মানুষ হারানোই
পৃথিবীর শেষ অর্থনৈতিক সংকট।
আমাদের ঘরে চাল কমে আসে,
আব্বার পকেটে মাসের শেষ সপ্তাহটা দীর্ঘ হয়,
আম্মার ওষুধের তালিকা প্রতি বছর বাড়ে—
আমরা সেসবের নাম দিই সংসার।
কিন্তু কেউ যখন জিজ্ঞেস করে,
“কী হয়েছে তোমার?”
আমরা বুকের ওপর হাত রেখে বলি—
“সে আমাকে আর ভালোবাসে না।”
কী আশ্চর্য—
আমরা নিজের শ্রমের দাম নিয়ে দর-কষাকষি করি না,
নিজের অধিকারের জন্য দাঁড়াই না,
ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করার আগে
একটি মানুষের স্মৃতিকে নিরাপদ রাখি।
আমরা প্রেমের ব্যর্থতাকে
ব্যক্তিগত বিপর্যয় বলে জানি;
কিন্তু যে জীবন প্রতিদিন
আমাদের কাছ থেকে একটু একটু করে কেড়ে নেওয়া হয়,
তার কোনো নাম রাখিনি।
তাই আমাদের কবিতায় বিরহ থাকে,
অথচ বেকারত্বের কোনো উপমা নেই;
প্রেমিকার নীরবতা আমাদের ঘুম কেড়ে নেয়,
কিন্তু নিজের নীরবতার কারণ খুঁজতে
আমরা খুব কমই রাত জাগি।
হয়তো মানুষ এমনই—
যে ক্ষত থেকে রক্ত বের হয়
তার চেয়ে যে ক্ষত থেকে স্মৃতি বের হয়
তাকেই বেশি গভীর মনে করে।
আর এই কারণেই
আমাদের সবচেয়ে ব্যক্তিগত দুঃখও
কখনও কখনও ব্যক্তিগত নয়—
একটি পুরো প্রজন্মের
ভুল জায়গায় কাঁদার অভ্যাস।
খসড়াধ্বনি: আমরা কি সত্যিই প্রেম হারানোর জন্য কাঁদি, নাকি জীবনের বড় ক্ষতগুলোকে চিনতেই শিখিনি?— আর, আমাদের সবচেয়ে ব্যক্তিগত দুঃখ আসলে কতটা ব্যক্তিগত?
অনুসন্ধান করুন
🎂 আজ যাদের জন্মদিন
চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য
শুভ জন্মদিন! 🎈
সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ
প্রিয় কবি বন্ধু, আপনার আন্তরিক প্রশংসার জন্য হৃদয...
আরো দেখুন
কাজী অ্যাডাম
লেখক:
কাজী অ্যাডাম
প্রিয় কবি বন্ধু, আপনার আন্তরিক ভালো লাগার জন্য কৃ...
আরো দেখুন
কাজী অ্যাডাম
লেখক:
কাজী অ্যাডাম