কাজী নজরুল ইসলাম

কবিতা - সুরা আবাসা

কাজী নজরুল ইসলাম |
শনিবার, ০৭ জুন ২০২৫ ধর্মীয় কবিতা

শুরু করি লয়ে নাম আল্লার,
দয়া করুণার যার নাই নাই পার।

(মোহাম্মদ) ভ্রূ-ভঙ্গি করি ফিরাইল মুখ
যেহেতু আসিল এক অন্ধ আগন্তুক
তাঁহার নিকট। তুমি জান (মোহাম্মদ)?
হয়তো বা লভিবে সে শুদ্ধির সম্পদ;
কিংবা তব উপদেশমতো সে চলিবে,
তাহাতে তাহার তরে সুফল ফলিবে।
মানে না যে তব কথা বে-পরোয়া হয়ে,
বুঝাইতে কত যত্ন তব, তারে লয়ে!
অথচ সে শুদ্ধাচারী না হইলে পর
তোমার দায়িত্ব নাই প্রভুর গোচর।
কিন্তু তব পাশে ছুটে আসে যেইজন
আল্লার সে ভয়-ও রাখে, তার থেকে মন
সরাইয়া লও তুমি! উচিত এ নয়,
আল্লার এ উপদেশ জানিও নিশ্চয়;
কাজেই যাহার ইচ্ছা, করুক উহার
আলোচনা। (সেই উপদেশ-সম্ভার)
মহিম-মহান পত্রাবলীতে (লিখিত),
উন্নত পূত লেখক হস্তে (সুরক্ষিত)।
(আর সে লেখকগণ) সৎ ও মহান।
সর্বনাশ মানুষের! সে কৃতঘ্ন-প্রাণ
অতি ঘোর! (হায়), তারে কোন বস্তু হতে
সৃজন করিয়াছেন তিনি? শুক্র হতে!
-তারে সৃষ্টি করে
যথাযথভাবে তারে সাজান, তা’পরে
সহজ করেন তার জন্য পথ তার,
পরে মৃত্যু ঘটাইয়া সমাধি মাঝার
লন তারে। পুনরায় ইচ্ছা সে যখন,
বাঁচাইয়া তুলিবেন তাহারে তখন।
না, না তিনি করেছেন যে আদেশ তারে
সমাধা সে করিল না তাহা (একেবারে)।
করুক মানুষ এবার দৃষ্টিপাত
তাহার খাদ্যের পানে, কত বৃষ্টিপাত
করিয়াছি (তার তরে); মাটিরে তা’পরে
বিদীর্ণ করিয়াছি কত ভালো করে।
অনন্তর জন্মায়েছি ফসল প্রচুর,
আঙ্গুর শাক-সব্জি, জায়তুন, খেজুর,
গহন কানন-রাজি, তৃণাদি ও ফল;
তোমাদের, তোমাদের পশুর মঙ্গল
সাধিতে। আসিবে যবে সে বিপদ-দিন,
(ভীষণ নিনাদে) লোক পালাবে সে দিন
নিজ ভ্রাতা, নিজ পিতা-মাতা হতে,
সঙ্গিনী ও পুত্রগণে (ফেলে রেখে পথে)।
সে-দিন এমনই হবে অবস্থা লোকের,
ভাবিতে সে পারিবে না কথা অন্যের।
সে-দিন উজ্জ্বল হবে কত সে আনন,
হাসিরাশি-ভরা আর পূর্ণ-হরষণ;
আবার কত সে মুখ ধূসর ধুলায়।
(হইবে হায় রে) আচ্ছাদিত কালিমায়?
-ইহারা তাহারা,
অমান্যকারী আর ভ্রষ্টাচারী যারা।

সুরা আবাসা

আবাস- ভ্রূ-ভঙ্গিকরণ।

এই সুরা মক্কা শরিফে অবতীর্ণ হয়। ইহাতে ৩২টি আয়াত, ১৩৩ টি শব্দ ও ৫৫৩টি অক্ষর আছে।

শানে-নজুল

একদা হজরত কোরেশ সম্প্রদায়ের ওৎবা, আবুজাহেল, আব্বাস প্রভৃতি বিশিষ্ট ব্যক্তিগণকে ইসলামের দিকে এই আশায় আহ্বান করিতেছিলেন যে, তাহারা ইসলাম গ্রহণ করিলে বহু লোক ইসলাম ধর্মগ্রহণ করিতে পারে। সেই সময় আবদুল্লাহ-এবনে-ওম্মে মকতুম নামক জনৈক অন্ধ লোক তাঁহার নিকট উপস্থিত হইয়া তাঁহাকে কোরান শিক্ষা দিবার জন্য হজরতকে তাঁহার দিকে অগ্রসর হইতে বলে। সে হজরতের কথোপকথনে বাধা প্রদান করিতে আসিয়াছে ভাবিয়া হজরত মুখ বিমর্ষ করিয়াছিলেন। তখন এই সুরা নাজেল হয়।

পরে পড়বো
১৪৫
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন