এক সন্ধ্যায় চিত্রার বুকে দেখেছিলাম জীবনের ছায়া!
বৈরী জনপদের ঢেউয়ে খানখান হচ্ছে এলোমেলো বাঁকা
শার্দুল শরীর তার। বিশ্বাসের অস্তিত্ব, যেন আঁধারের কায়া;
বিলীন হচ্ছে সর্পিল রেখায়, যেন রাতের সমুদ্র- শিল্পীর ক্যানভাসে আঁকা…

রক্তঝরা সন্ধ্যার আবেশী রাগের ছোঁয়ায় ছোঁয়ায়
চিত্রার কালো জল যেন আরো কালো হয়ে উঠেছে বারবার,
ঠিক কলঙ্কের মতো পরিচয়হীন, কেবলই মাথা নোয়ায় আর নোয়ায়-
যেন পুনঃপ্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নেই এতটুকু আর…

জীবন আর চিত্রার এমনই নিত্য জটিল সন্ধিক্ষণে-
সহসা সে দিনের সেই রক্তঝরা সন্ধ্যার বিড়ম্বনা এসে যায়;
হৃদয়ের প্রকোষ্ঠে পারদ ভাঙে নিঃশব্দচারী জনে
রক্তের ইতিহাস যেন বারেবারে মুছে যেতে চায়

মাটির অন্তর কাঁপে, বাতাস কাঁপে, কাঁপে চিত্রার জল
মানুষের অন্তর কাঁপে, সম্পর্কের বন্ধন কাঁপে এপারে-ওপারে দিশেদিশে
কাঁপে থরোথরো বিধাতার অনন্ত আকাশতল;
ভারী ট্যাকের মাহাত্ম্য নিঃশেষ হয় নিমেষে!

কত না ছায়ার বিপন্নতা সহসা চিত্রার বক্ষে;
কার দুঃস্বপ্ন, কার দুর্ভাগ্য আজ হাওয়ায় ওড়ে!
আজি অভিশপ্ত দিনান্তের এই প্রদোষ কলঙ্কে
কার অভিশাপে, কার ভুলে, কার অন্তর পোড়ে!

(সন্ধ‍্যার ফেরিঘাটে এক বাস-ডুবির দুর্ঘটনা নিয়ে লেখা।
মার্চ ১৯৯৫, নড়াইল।)