সঞ্জয় ওকে মেলা থেকে নুপুর কিনে দিয়ে ছিলো। ওটা ফেলে দিলো টিয়া। ওদের প্রেমের প্রথম উপাহার জন্য ও ধরা পরে যেতো।ওর হরিণ চলন আজ শঙ্কিত, ত্রস্ত। টিয়া খুব চঞ্চল কিন্তু পরিস্থিতি ওকে আজ বদলে দিয়েছে। বিড়ালের মতো পায়ের পাতা টিপেটিপে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে এ মহল থেকে তাকে বেরোতেই হবে। কিন্তু ও সঞ্জয় ওপর ভরসা নেই।
সঞ্জয় সেই দিন কথা গুলো ও ভুলতে পারে নি। স্কুল ফ্রেন্ডে ঠিকানা খুজতে গিয়ে ওরা কাছাকাছি এসেছিল।প্রথম যৌনতা স্বাদ ও পেলো সঞ্জয় কাছে। কিন্তু সঞ্জয় জীবনে ও প্রথম নারী নয়। তার শীর্ণ শরীর যৌবন এখন পরিপূর্ণ নয়। তাই এড়িয়ে যাতে চাইছে তাকে তার স্বপ্নের রাজপুত্র। বলছে সেই দিনে সব কিছু ছিলো না একটা ভুল।
টিয়ার কাছে এটা অপমানের তাই সেই নিজের যৌবনে ঝলক দেখাতে বৃষ্টি ভিজ ছিলো ও। ওটাই কাল হলো।
কর্তার খর দৃষ্টি , এখনই উপড়ে নিতে চায় ওই ওর যৌবন মোটা মোটা কর্কশ আঙুল দিয়ে। মাত্রই পনেরো বছর বয়স তার, সে বাঁচতে চায়। হলই বা রক্ষীতার মেয়ে কিন্তু সেতো পড়াশোনা করছে। সে বড়ো মানুষ হতে চায়। তাছাড়া কর্তা তো সঞ্জয় জ্যেষ্ঠা মশাই। টীয়ার মাকে সোনার গাছী থেকে নাকি সঞ্জয় জ্যেষ্ঠা মশাই কিনে এনেছিল এ বাড়িতে। একটা অনাথ আশ্রম চালায় কর্তা । তার রান্না বান্না কাজ করে টীয়ার মা। লোক বলে টীয়ার মা আসলে কর্তা বাবুর রক্ষিতা।
কর্তা বাবুর আজ রাতের খাবার নিয়ে যেতে বলেছে টিয়া কে। অন্য দিন টিয়ার মা যায়। মেনেজার কাকা অনেক কাকুতি করে মা বলেছে” ও বাচ্চা মেয়ে ওকে রেহাই দিন। ” কিন্তু ম্যানজার বাবুর এক কথা কর্তা বাবুর কথার নরচর হবে না।
বড় রাস্তায় নেমে ছুটতে শুরু করেছে টিয়া। দশ কুড়ি তিনি পর ও শুনতে পেলো অনেক গুলো বাইকের আওয়াজ।দু’একবার এ পথে পাক খেয়ে গেলো কর্তা বাবুর বাইক বাহিনী। পুকুরে নেমে পরে কচুরিপানা আড়াল থেকে ভাঙ্গা ভাঙ্গা পথ দেখেলো। আবার ছুটতে লাগলো ।
দুই পা এগোতেই পিছনে সাড়া জাগে। তার পালিয়ে আসার খবরটা চাউর হয়ে গেছে। বুক কেঁপে উঠল টীয়া। কত্তা লোক কাছে দানবীর হলেও। না-কি ভীষণ কষ্ট দেয় মেয়েদের ! মেয়েদের শরীর মহার্ঘ্য, তাই শরীরে কোন আঘাত থাকে না।
জলের চৌবাচ্চায় বারেবারে চুবানো হয়। মুখে কাঁপা দিয়ে গেলানো হয় গ্যালন গ্যালেন মদ। অনাথ আশ্রম ও চালায় ঐ জন্য। কর্তা বাবুর নতুন নতুন মেয়েদের স্বাদ চায় সে। কিন্তু টীয়া কোন দিন ভাবে নি লোক তার ওপর কুনজর দেবে। উনার কোলে খেলা করছে সঞ্জয় আর ও। টীয়া একটা সময় নিজেকে এই বাড়ির সদস্য ভাবতো। টীয়া কোন ক্রমে ট্রেন ওঠলো , কলকাতার যাবে ট্রেনটা।
কলকাতা কোন কিছু চেনে না। শুধু কয়েকটি বার ফোনে কথা হয়ে ছিলো সোনা মাসির সাথে। কিন্তু মা বলেছিলো সোনা ওর আসল নাম নয়। তবে ঠিকানা টা ঠিক ঠাক জানে ও। সোনার গাছি।
সোনার গাছি নামটা শুনলেই আপনারা কানে হাত দিয়ে দেন। ওখানে গেলেই নাকি প্রশ্ন শোনা যায় ‘খাটে না চটে?’ । খদ্দের ‘খাট’ চান নাকি ‘চট’ সেই বুঝে তারপর শুরু হয়, দরদাম ফুর্তি যত বাড়ে, রেটও বাড়তে থাকে ধাপে ধাপে।
সোনাগাছি – এখন যৌনতার এক পরিবর্তিত শব্দ। বড়রা ছোটদের সামনে এই শব্দ উচ্চারণ করে না। এখানে যৌনতা বিক্রি হয়। সুলভে। খুবই কম টাকায়। কম সময়ে।
ছোট্ট একটা খুপড়ির মত ঘরে যৌনতা বিক্রি করে এখানকার মহিলারা। একটা বিছানা, একটা টুল আর জলের বোতল ছাড়া সে ঘরে আর কিছুই নেই বললে চলে। বেশীর ভাগ ঘরেই জানলা নেই। যেকটা ঘরে আছে সেই সব ঘরের জানলা বলতে গেলেই বন্ধ। গুমোট, বীর্যের নোংরা গন্ধে ভরা বাসি চাদরেই সেরে নিতে হয় চাহিদার ক্ষিদে।
কিন্তু সোনাগাছির পথ চলা প্রথম শুরু হয়েছিল বোধহয় উনিশ শতকেই। গোটা ভারতকেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রাজত্ব। কলকাতা তখন ব্রিটিশরাজের নয়া রাজধানী। নতুন রাজ্য শাসন করার জন্য ইংল্যান্ড থেকে এসেছেন একদল তরুণ যুবা। তাদের বয়স কম, শরীরে তরুণ রক্ত। নতুন দেশে এসে তার জৌলুস দেখে তাঁদের তো চক্ষু চড়কগাছ। দেদার ধনদৌলতে শিগগিরই তাদের পকেট ভরে উঠতে লাগল। ফুর্তিতে মন দিলেন তাঁরা। বিবি-বাচ্ছা সবই তো এদিকে ইংল্যান্ডে। কী করবেন? অগত্যা এদেশী কালা নেটিভদের বিধবা মেয়েগুলোকে ধরে ধরে আনতে লাগলেন সোনাগাছিতে কলকাতা শহরে বেশ্যাবৃত্তির বোধহয় সেই শুরু। কেউ কেউ বলেন অবশ্য ওই যে পূবে কর্ণওইয়ালিস স্ট্রিট ও পশ্চিমে চিতপুর—তার মধ্যিখানের গোটা জায়গাটা নিয়ে যে বেশ্যাদের উপনিবেশ গড়ে তুলেছিলেন, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মত অভিজাতরা এতে সহযোগিতা করেছিলেন। কলকাতার কয়েকজন ধনী জমিদার ‘বাবু’র উদ্যোগেই নাকি শুরু হয়েছিল সোনাগাছির ব্যবসা।
একসময় সানাউল্লাহ নামে এক মুসলমান গাজী বাবাকে ডাক হতো সোনার গাজী বলে। তারপর একসময় জায়গাটার নাম হয় ‘সোনাগাজী’ । আর সেই নামেই আস্তে আস্তে সোনাগাজী থেকে ‘সোনাগাছি’ হয়ে ওঠে।
সেকালের বাবুদের বারবনিতা-বিলাস নাকি ছিল রীতিমতো একটা ব্যাপার। তারপরে সোনাগাছির এলাকা ক্রমাগত বেড়েছে। ভারতে যৌনব্যবসা আইনমতে নিষিদ্ধ হলেও কিছুদিন আগের এক হিসেব অনুযায়ী প্রায় ১৪০০০ যৌনকর্মী সোনাগাছিতে কাজ করেন। প্রতিবছর প্রায় ১০০০ জন মেয়ে এই ব্যবসায় নতুন যোগ দেন।
টীয়া শুনেছে সোনা মাসিরা সোনাগাছিতে দুর্গাপুজোও করছে প্রতি বছর। ও সেক্রেটারি ওখানে। বাইরে শ্রাবণের বৃষ্টি থেমে গেছে। কাল থেকেই কি পচা ভাদ্রের শুরু, না কাল পোনের আগস্ট। সঞ্জয় টীয়া জীবনের প্রথম পুরুষ। কিন্তু সম্পর্কটা সঞ্জয় এগাবে না আর , ওর কথায় সব কিছু একটা দূর্ঘটনা। আসলে ও রক্ষীতার মেয়ে তাই ওকে রক্ষীতা করে রাখতে চায় সবাই। সেটা সঞ্জয় বলেও ফেলেছে। কিন্তু সত্য কারের কেউ যদি ওকে বিয়ে করে, সেও তো তাকে খেতে পড়তে দেবে তার এই শরীরের জন্য। কারণ সাত পাকের বন্ধন তো আসলে সামাজিক ভাবে ধষর্ণে অধিকার।পুরুষ চায় শরীরের ওপর একক অধিকার।নিরাপত্তা অনুগত্য। নিরাপদ যৌন সম্পর্ক।
টীয়া চোখ মুছে ঠিক করলো দেহে বেচে যদি বেচে থাকতে হয়। তাহলে একজনে মালিক হবে কেন, তার শরীর টার। সে শরীর বেচবে স্বাধীন ভাবে।
,,,,,,,



মন্তব্য করতে ক্লিক করুন