বুবাই এর চোখে একটা লেখা পড়লো। লেখা বুবাই এর মনে খুব দাগ কাটলো। কপি করে পোস্ট করলো সোস্যাল মিডিয়া তে। “আপনাকে প্রেম না করার জন্য ধন্যবাদ। প্রেম করাটা বুদ্ধিমানের পরিচয় নয়। এখন সময় নিজেকে যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তোলার। প্রেম করে সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। আপনারা বন্ধুরা একদিন এই ‘প্রেম’ করার জন্য পস্তাবে। আফসোস করবে। হায় হায় করবে। আপনি প্রেম না করে আপনার জীবনের লক্ষ্যে এগিয়ে যান। জীবনে সফল হোন। বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরন করুন। আপনি যখন জীবনে সফল হবেন। ভালো চাকরী বা ব্যবসা করবেন, তখন দেখবেন- আপনার সাথে প্রেম করার জন্য অসংখ্য মেয়ে লাইন দিবে।
প্রেম করা মানে কি? সারারাত জেগে মোবাইলে কথা বলা? ফাস্ট ফুডের দোকানে আড্ডা দেওয়া? গার্ল ফ্রেন্ড কে গিফট দেওয়া? রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা খাওয়া? রিকশায় করে ঘুরা? পার্কে গিয়ে গল্প করা? এইসব করে লাভটা কি? শুধু সময়ের অপচয়। বুদ্ধিমানরা প্রেম ভালোবাসা থেকে দূরে থাকে। তাঁরা নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যায়। প্রেম করা জরুরী না। নিজেকে গড়ে তোলা জরুরী।”
বুঝাই এর জীবন সব কিছু ই হয়েছে পরে পরে। কথা বলতে শিখেছে পরে, দাঁত উঠেছে পরে, এমনকি ক্যারিয়ার নিয়ে সচেতন হয়েছে পরে। ফলে চাকরি পেতে ও দেরি হয়ে গেছে। আসলে গরীব ঘরের ছেলে। বাবা বাস কন্ডাক্টর ছিলো। তাই সে অত বড় মানুষ হবার স্বপ্ন দেখতো না।মাছ ধরতো, মাঠ ঘাটে বাগানে ঘুরে ফল পাকড় সংগ্রহ করতো, ছবি আঁকতো, গান করতো, এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াতো। সে কোন দিন ডাক্তার ইন্জিনিয়ার হবার স্বপ্ন দেখেনি।
বিপদ হলো হঠাৎ করে তার বাবা একটা সরকার চাকরি পেলো। পেতেই বাবা ওকে আঁকার স্কুল ভর্তি করালো। মা হাতে পায়ে ধরে অনীল স্যার কোচিং ভর্তি করালো। লোক বলে পচা আলুর সাথে ভালো আলু রাখলে পেচে যায়। তাহলে ভালো দামী দামী ছেলেদের সাথে মিশে সে কেন ভালো ছেলে হবে না।
বিদ্যাসাগর লেখায় পড়েছেন, গোপাল ভালো ছেলে রোজ ইস্কুলে যায়। রাখাল খারাপ ছেলে। মাঠে গরু চড়ায়। কিন্তু ভেবে দেখেছেন, আসলে পুরো গল্পটাই অর্থ নৈতিক। ধরুন আপনার “বাবু “কে তিন বছর না হতে হতেই আপনি কিড জিতে পাঠাছেন। আর
ছোট লোকের বাচ্চা খোকন সারাদিন এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াছে, ধুলোবালিছাই পাস মাখছে।পাঁচ বছর হতে তবে পাড়া পড়শী কথা শুনে খিচুড়ি স্কুল যাচ্ছে তাও ব ই পত্তের চেয়ে টিফিন ক্যারিয়ার বেশি তার ব্যাগে বাড়ির জন্য খিচুড়ি চুরি করে আনবে বলে। আর খোকনের যেই বয়েস হলো এই বছর দশকে তখন খোকন হঠাৎই হয়ে গেলো ছোটু তাকে দেখতে পেলাম, তারকের গ্যারেজে কিংবা রামুর চায়ের দোকানে চাকরি করতে।
যাইহোক বাবার চাকরি হতেই হঠাৎই বুবাই জীবনে সব কিছু বদলে গেলো। ও একটা ভালো ছেলে হতে চাইলো। হঠাৎই বিদ্যাসাগর সেই গোপালের মতো সুবোধ বালক হতে চাইলো। বেশ ভালো কথা, বয়সে দোষ একটা প্রেম হয়ে গেলো মুস্কিল হলো। উচ্চ মাধ্যমিক আশা অনুরূপ ফল হলো না ওর। ও নিজেকে আত্মবিশ্লেষণ করে দেখলো ওর কোন দোষ নেই। গ্রুপ স্টার্ডি করতে গিয়ে ও দেবযানীর সাথে বেশি সময় টা সেক্স করেই নষ্ট করেছে। দেবযানীর রেজাল্ট ভালো ই করেছে। অথচ বুবাই ওর থেকে পড়াশোনা ভালো। বুবাই ওকে সব কিছু বুঝিয়ে দিতো। সুতরাং বুবাই এর ধারণা হলো দেবযানী এই ভালোবাসা নামক সম্পর্ক থেকে লাভবান হয়েছে। আর হয়েছে লুজার তাই ও সম্পর্কটা থেকে বেরিয়ে এসে ভালো করে পড়াশোনা মন দিলো।
পড়াশোনা শেষ চাকরি সন্ধান বুবাই খুব ব্যাস্ত। কিন্তু চাকরি আর পায় না। টুকটাক টিউশনি করছে। কিন্তু হঠাৎ করে আবার পা পিছলে বুবাই প্রেম পড়লো ওর একছাত্রীর গরীব ঘরের মেয়ে অপু। শাক ভাত খেয়ে মানুষ, বুবাই সাথে বিয়ে হলে ঝোলে ভাতে থাকতে পরবে এটুকু জানতো। একটা ছোট পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে কম মাইনের চাকরি পেতেই। তাই সাত তাড়াতাড়ি বিয়ে টা করে ফেলো ওরা। কিন্তু শিক্ষক ছাত্রীর সম্পর্ক। বুবাই তাই বৌ অপুকে অনেক শিক্ষিত করতে চাইলো। কিন্তু প্রয়োজনীয় ডিগ্রী পেয়ে অপু চাকরি জোগাড় করে অফিস কলিগের সাথে ফুরুত।
বুবাই তেল বেগুনে জ্বলে উঠলো, সে এবার বড়ো লোক হবে ভালো চাকরি করবে । আবার ফিরিয়ে আনবে তার প্রিয়তমা অপু কে। সে বিদেশ পাড়ি দিলো। একটু টাকা হতেই নামী দামি বন্ধু বান্ধব হলো। নিজের এক ডাক্তার বন্ধুর গার্ল ফ্রেন্ড প্রেম পড়লো বুবাই। না ঠিক প্রেম নয় মায়ায়। ডাক্তার বারবার রিল করা, লাইফ আসা মডেল দের প্রেম পরে, তাই ঐ মেয়েটা মডেল হতে চায়, হতে চায় বড়ো ইউটিবার। সেই হিসেবে আবার বুবাই সাথে ওর বন্ধুত্ব হলো আসলে বুবাই এক সময় টলিউড টুকটাক কাজ করতো। এখনো টলিপাড়ায় যাতায়াত করে।
মেয়েটা বুবাই সাথে বন্ধুত্ব গড়তে আগ্রহী কারণ বুবাই অভিনয় জগতে আসতে চায়। এদিকে বুবাই জানে তার ডাক্তার বন্ধুটি মেয়েটাকে কখনো বিয়ে করবে না। অথচ বোকা মেয়েটা এটা তত্ত্ব সুচী পর্যন্ত কিনে বসে আছে। বোকা মেয়েটার মায়ায় জড়িয়ে যেতে থাকলো বুবাই না না ভাবে সাহায্য করতে শুরু করলো ফলে ডাক্তার সাথে ব্রেক আপ হলেই রিভাইভাল সম্পর্ক হিসেবে ওদের প্রেম শুরু হলো। প্রি ওয়েডিং ফোট সুট করে বুবাই আবার দুই বছরের জন্য বিদেশে পারি দিলো।
বোকা মেয়েটার সাথে ফটোগ্রাফারটির বন্ধুত্ব হলো, প্রচুর ফোটসুট ভিডিও তৈরি হলো নিয়মিত কিন্তু সফলতা আসেছে না। এবার বোকা মেয়েটা বিখ্যাত হতে একটা সাহসী ফোট সুট করলো। বুবাই ভীষণ ভাবে রেগে গেলো। কারণ মেয়েটা যথেষ্ট প্রতিভাবান, এবং পরিশ্রমী। তাই সে সফল হবেই। তাহলে কি ওই ফটোগ্রাফার বিখ্যাত করতে এই সব ফোট সুট করা। বুবাইএর অভিজ্ঞতা অনেক সে কোন মেয়েকে খারাপ ভাবে না। কারণ একটা মেয়ে কোন ছেলেকে ভালো বাসলে সবকিছু উজার করে দেয়। মনসা মঙ্গল দেখুন ওই বেহালাকে, স্বামীকে বাচাতে , শোলের হেমা মতো নাচলেন দেবতাদের সামনে। দেবতারা নাচ দেখলেন গবর সিং মতো। তাই মেয়েরা তাকে ভালোবাসে মন থেকে তার চোখে মনে হয় যে কষ্ট আছে। সফলকে সে ভালোবাসে না বিয়ে করতে চায় শুধু নিরপত্তার জন্য। সে আশ্রয় হয়ে থাকে দর্বল এর। যাই ভালোবাসা নামক এই মিথ্যা অভিনয় সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে বুবাই। আজকালের প্রেম এর একটা ভালো গুন চাপ অম্লের মতো কষ্ট হলেও, জ্বর সর্দি কাশির মতো অসুস্থ হয় না তাই কেউ টের পেলো না তাদের সম্পর্ক টা ভেঙে গেছে। বোকা মেয়েটা ও ব্যাস্ত হয়ে গেলো নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লাড়াইএ। আজকালের প্রেম এটাই গুণ বেশি কষ্ট দেয় না দীর্ঘশ্বাস ফলে না। সহজেই একটি দাড়ি টেনে দিতে পারে একটা সম্পর্কে। ,,



মন্তব্য করতে ক্লিক করুন