কবিতা — এক স্বপ্নবাজের এপিটাফ

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ বিবিধ কবিতা, রূপক কবিতা

একদিন সব শব্দ থেমে যাবে।
চুপ করে থাকবে নামের নিচে এক টুকরো পাথর।
হয়তো সেখানে খোদাই হবে আমারই লেখা কোনো লাইন,
যা লিখেছিলাম বেঁচে থাকতে নিজেকে না বুঝেই।

মাটি তখন নরম হবে, ঘাসে ভিজবে অক্ষর,
বৃষ্টি এসে ছুঁয়ে যাবে মাটির বুকে থাকা আমার শব।
হয়তো এপিটাফ কেউ পড়বে, হয়তো কেউ উপেক্ষা করবে,
তবু সেই কয়েকটি শব্দ দাঁড়িয়ে থাকবে একা, অটল, নিরুত্তর।

আমি ভাবি,
এপিটাফ কি শুধুই মৃত্যু-স্মারক?
না কি জীবনের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন মাত্র?
যেখানে যোগ-বিয়োগ, হারানো, ক্লান্তি,ও হাসি সব একসঙ্গে বাঁধা!

হয়তো কেউ একজন বলবে, “এখানে ঘুমোচ্ছে এক ব্যর্থ স্বপ্নবাজ।”
কেউ বলবে, “সে ভালোবাসত আকাশকে, কিন্তু ফিরে এসেছিল মাটিতে।”
আবার কেউ হয়তো সাহস করে লিখে দেবে
“সে মরেনি, সে শব্দে রয়ে গেছে।”

এপিটাফ মানে শুধুই নীরবতা নয়,
এটি হতে পারে কারো শেষ আর্তনাদ।
যেখানে একজন মানুষ সময়কে বলে যায়,
“একসময় আমিও ছিলাম, তোমাদের মতোই একজন।”

কখনও মনে হয়,
প্রত্যেকটা মানুষ নিজের জীবনের জন্য একেকটি এপিটাফ লিখে যায়,
শুধু আমরাই বুঝি না।
কারোটি থাকে চোখের সামনে, হয়তো কারোটি অন্তরালেই থেকে যায়,
কারোটি আবার শুধু বাতাসে ভেসে বেড়ায়- নামহীন, অথচ অমর।

আর আমি? আমি হয়তো লিখব
“পৃথিবী আমাকে ব্যথিত করেছে, তবু আমি তার দিকেই ফিরেছি।”
অথবা “আমার ভুলগুলোই ছিল আমার সবচেয়ে সত্য অংশ।”
কিংবা “আমি জানতাম না, পৃথিবী কত কঠিন,
তবু তার কোলে শুয়ে ছিলাম, যেমন শিশু শুয়ে থাকে মায়ের কোলে।”

©_অরণ্য
#অনিকেত_কান্তা

৩ বার পঠিত রিপোর্ট

মন্তব্য করুন

লেখকের অন্যান্য প্রকাশনা