নিরো একদিন বাঁশি বাজাল,
রোম নগরী ধসে পড়ল প্রাচীরের ইটের মতো।
সেই ধ্বংসের ভিতরেই ভেঙে গেল
আমাদের প্রথম বিশ্বাসের স্তম্ভ।
তুমি বললে,
“ভালোবাসা অটল প্রাচীর।”
আমি বললাম,
“প্রাচীরও একদিন ভাঙে।”
আর সেই কথার ভেতরেই
চূর্ণ হলো আমাদের আলিঙ্গনের কোলাহল।
তারপর এলো ফ্রান্সের রক্তমাখা সকাল,
গিলোটিনের নিচে লুইয়ের মাথা দুলল,
প্যারিসের রাস্তায় ঝরে পড়ল স্লোগান আর ঘাম।
আমাদের ভালোবাসাও তখন
এক বিপ্লবের মতোই ছিন্নভিন্ন হলো,
শপথগুলো উড়ে গেল বাতাসে,
তুমি জনতার পক্ষে দাঁড়ালে,
আমি পরাজিত রাজাদের মতো
অন্ধকারে নির্বাসিত হলাম।
অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের মতোই
আমাদের প্রেম ধীরে ধীরে হারাল জ্যোতি।
একদিন তা ছড়িয়েছিল বিস্তার,
তিন মহাদেশের সাম্রাজ্যের মতোই মহিমা।
কিন্তু সময় জমিয়ে দিল নিঃসঙ্গতা,
তুমি চলে গেলে বুকের প্রাসাদ ছেড়ে,
আমি রইলাম ভগ্ন মিনারের মতো
অর্ধেক দাঁড়ানো, অর্ধেক ধ্বসে যাওয়া।
তারপর ডুবে গেল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য,
যে সূর্য একদিন অম্লান থাকবে বলেই
মানুষ বিশ্বাস করত।
সেই সূর্যের মতোই
তোমার চোখের দীপ্তি মিলিয়ে গেল
আমার দিগন্ত থেকে ধীরে ধীরে।
তুমি যখন বললে,
“প্রেমও একদিন ক্লান্ত হয়।”
আমি তখন শিখলাম,
সাম্রাজ্য যেমন পতনশীল,
প্রেমও তেমনি ক্ষণস্থায়ী।
প্রতিটি ইতিহাসের পতন
আমাদের প্রেমের ছায়াপথে খোদাই হয়ে আছে।
রোমের ধ্বংসস্তূপে পড়ে আছে
আমাদের প্রথম চুম্বনের ফসিল,
ফরাসি বিপ্লবের রক্তমাখা রাস্তায়
শুয়ে আছে ভাঙা প্রতিজ্ঞা,
অটোমানের ভগ্ন মিনারে
ঝুলছে দীর্ঘ প্রতীক্ষা,
আর ব্রিটিশ সূর্যাস্তে
চিরতরে মুছে গেছে তোমার চোখের আভা।
তবুও আমি বাঁচি,
যেমন ইতিহাস ভাঙা পতাকায়ও খুঁজে ফেরে মহিমা,
তেমনি আমি ভস্মের নিচে
খুঁজে ফিরি তোমার নাম, তোমার প্রতিধ্বনি।
আর ভাবি,
সমস্ত পতন কি কেবল ইতিহাসের?
নাকি প্রেমই সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য,
যার পতনে পৃথিবী থেমে যায়,
শূন্যতার দিকে গড়িয়ে পড়ে
মানব হৃদয়ের সব রঙ?
– আতিকুর রহমান
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন