অরিত্রি নৈরীতি

কবিতা - অনন্ত চক্রবৃত্ত

অরিত্রি নৈরীতি

অনন্ত চক্রবৃত্তের উৎপত্তি-
নৈঋতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধূলিকণার-
নিষিদ্ধ মৃত্তিকায় ব্যপ্তি!
ছদ্মবেশীর পদধুলিতে নিশ্চিহ্ন কণা,
কর্ণরন্ধ্রে আজো সজোরে বাজিতেছে বীণা!
তিমির তারকায় স্পষ্ট কেন্দ্রবিন্দু,
মননের নিকেন্দ্র,
অন্তর্হিত চৈতন্য এর প্রকাণ্ডতা নিম্ন…!
বৃত্তাকার প্রাণের স্পন্দন,
দিবালোকে ঘটে শাস্ত্রের লুণ্ঠন!
আবর্তিত ঘূর্ণায়মান চক্রে-
চিরায়ত অর্ধবৃত্ত, পূর্ণবৃত্তের সমাহার…!
ভুলিয়া গেছি –
হারানো সেই পুরোনো কণ্ঠহার!
কুর্নিশ জানিয়াছিলাম –
কেন্দ্রীয় মাত্রাহীন তুচ্ছাংশকে,
হইয়া অপ্রতিম সঞ্চারপথ!
কৃতঘ্ন মোরে চিরতরে,
নস্যাৎ করিবার লইয়াছিল শপথ..!
প্রসন্ন অন্নপূর্ণার প্রতিমায়-
পদাঙ্কিত হইয়াছিলো:
দ্বেষবিষাণী বিষ্মুখী শ্রেষ্ঠ নাগ!
সর্পের মণি লভিয়া,
শেষমেষ সুপ্রিয় বৃত্তাংশে,
দংশন করিতে হয় নাই লেশমাত্র অপরাগ!
তবে মহাপ্রয়াণের সূচনাংশে-
স্রষ্টা মর্ত্যে পুনর্বার বীণা বাজায়!
কুণ্ডলীর মাঝে,
এক নবচক্রে উঠে আসে-
পুনরাবৃত্তির গীতি লইয়া-
নিভু নিভু প্রদীপের শিখায়…!
হৃদি তবু কাঁপে,
অস্ফুটস্বরে শ্মশানধ্বনি শোনা যায়,
ভবচক্রে কুন্তলের আলোয়,
বিনাশের আবছায়া রহে পাছে…!
ভগ্নাবশেষ রটিয়ে বেড়ায়-
নির্জনের অকৃত নিশিকাব্য,
অকুশল ইতর সর্প,
আড়াল করিয়া নিজ কুকর্ম,
অন্যকে বুঝায় নিজের মর্ম!
বেদান্তের আঙ্গিকে,
তীর্থের সুরে ও চিরন্তন স্বাচ্ছন্দ্যে,
বিরহে নিঃসৃত অশ্রু,
এক নির্মল বিনাশের দিকে ধাবিত হয় –
নিজস্ব শ্রান্তিরহিত ছন্দে!

পরে পড়বো
৫৬
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন