রজঃচক্রে ক্লিষ্ট ঋতু্মতী,
এই ম্রিয়মাণ ক্ষণদায় –
রতিক্রিয়ায় উড্ডীয়মান পুরুষ এর ভার কি বহন করিবে-
ওই শান্ত পুষ্করিণী?
রক্তিম ওষ্ঠাগতপ্রাণ,
দু’টি নিশ্বাস একত্রিত হওয়ার ধ্যান –
নাভিকুঞ্জে যে পথিক হারিয়াছে বেতাল হইয়া দিগ্বিদিক,
স্তনবৃন্তের পুষ্পকলিতে চুম্বনাতুর নেত্র –
সর্বদা অনিমেষ-অনির্ভীক…!
শাখাগ্রের পুষ্পদল আজি অন্ধবৎ মধুপের প্রতীক্ষায় রুষ্ট ,
পরাগায়ণের অনিরুদ্ধ সংকল্পে উন্মুক্ত ঐ পুংদণ্ড –
নিরেট পাষাণের ন্যায় দুর্মদ,
এক লীলা-বিগ্রহে মগ্ন!
উষ্ণ আশ্লেষ-তাড়নায় বিদীর্ণ তনু-গাত্র,
পীনোন্নত পয়োধর-ভাজে প্রতীয়মান সেই দংশন-চিহ্ন!
রসনালোলুপ লেহন-চোষণে মত্ত ওই অতৃপ্ত কামনার শিখা,
কুসুম-কোমল নারী তনু মাঝে,
জাগাইয়া তোলে চঞ্চল পুলক-শিহরণের অবিচ্ছেদ্য রেখা!
শ্রান্ত তনু কামনার ভারে যদ্যপি নুইয়ে পড়ে বিষাদ-বিগ্রহে,
তবে কি প্রেমের তরী বহিবে কেবল ক্ষণিকের উন্মাদে?
রুগ্ন প্রহরে পুষ্পধনু কি বর্ষিবে আর তপ্ত শরজাল?
দেহাতীত প্রেমে কি কভু মিলিবে না বিলীন হইবার চিরন্তন কাল?
অবশ অঙ্গে যদি ফুরোয় কেবলই মাংসল তৃষ্ণার আবেশ,
তবে কি প্রেম হারাবে দিশা,
চিনিয়া মাত্র নশ্বর দেহের রেশ?
আত্নরতির মোহ ত্যাজি আজ পৌরুষ লভিয়াছে নব পরিচয়,
মাতৃত্বের স্বাদ-সুধা দানে প্রিয়তমার জঠরে রচনা করিয়াছে জয়!
৫৬১

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন