মরাল-মনস্তাপ
মরাল-মনস্তাপ
অরিত্রি নৈরীতি

গল্প - মরাল-মনস্তাপ

অরিত্রি নৈরীতি
বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ অন্যান

হীন-সন্তরণ মরাল! তব হৃৎ-কমল কেন আজ সমধিক ম্লান? এই যে বিস্তীর্ণ সলিলরাশি তোমারে প্রত্যাখ্যান করিতেছে, ইহা কি কেবলই অকারণ অবজ্ঞা? তব পক্ষপুট হইতে বিচ্যুত পালক অশ্রুবিন্দুর ন্যায় ঝরিয়া পড়িতেছে; বিগত জন্মে যে রাজহংস-সুলভ আভিজাত্যের বাসনা তুমি পোষণ করিতে, তাহা কি অদ্যাপি চিত্তে রমণীয় ঠেকে?
​জলমগ্ন হিজল বৃক্ষতলে নিভৃত রজনীর নিরালা কোণে বসিয়া, পক্ষী-হৃদয়ে মনুষ্য হইবার যে দুঃসাধ্য ও অলীক আকাঙ্ক্ষা তুমি জাগাইয়াছ – তাহা অতিশয় দুর্লভ। তোমার এই নশ্বর কলেবর ছিন্ন করিয়া বিশ্বের উপমায় বিদীর্ণ করিলে, তবেই হয়তো মানব-উৎসবের লেলিহান অগ্নিশিখায় তোমার অস্তিত্ব স্থিতি লাভ করিবে।
​নীরদের জঠরে সেই অলক্ষ্য ও জ্যোতিহীন নূর নিদ্রিত রহিয়াছে, যাহা একদা পালক খসিয়া ম্লান হইয়াছিল। মেঘের অঞ্জন তোমার নেত্রপল্লব হইতে কজ্জ্বল মুছাইয়া দিবে বটে, কিন্তু তাহাতে কোনো মঙ্গল সাধিত হইবে না। তোমার এই ব্যথিত প্রাণ কেবল অশ্রু-জলসা-মঞ্চেই প্রকম্পিত হইবে এবং মোহের ফাদে পড়িয়া প্রেমের তরণী গাহিবে বিনাশের সংগীত।
​সন্তরণ বিস্মৃত হইয়া তুমি অতিশয় ত্রাসে স্থলের অভিমুখে ধাবিত হইতেছ; অথচ তব স্কন্ধে পক্ষ নাই- তবে কোন্ মন্ত্রবলে তুমি শূন্যমার্গে ভাসমান হইবে? মোহ-অন্ধকার বিদীর্ণ করিয়া তুমি কি শ্বেতশুভ্রা সরস্বতীর বাহন হইতে পারিবে? এই পীত-পক্ষী কি তবে লাভ করিবে সেই পরম উড্ডয়ন-অধিকার?
এই হরিত অরণ্যভূমিতে পীত মরাল কি কভু পক্ষ বিস্তার করিতে সক্ষম? তুমি কি আপন হাস্যরসে পুষ্করিণী ক্রয় করিলে, নাকি অতল সলিল তোমারে গ্রাস করিল? তোমার পক্ষতলে কে ওই নিদ্রিতা? সে কি তোমার চিরন্তনী সখী? সকল অভিমান ঘুচিয়া যাক; প্রভঞ্জন প্রবাহিত হউক, আর সেই দিব্য পরশ ঝরিয়া পড়ুক তব শুভ্র তনুতে।

পরে পড়বো
১২২
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন