পাতার নিচে ঢলে-পড়া বৃষ্টির মতো যে দুঃখ,
সে তো এসেছিল নিঃশব্দে— যেমন আসে মধ্যরাতের গন্ধ
ফেলে-আসা কোনো নদীর বাঁকে।
তুমি ছিলে হয়তো, কিংবা ছিলে না—
তবুও অচেনা বকুলবনে আজও
কারা যেন হেঁটে যায় খুব ধীরে।
প্রয়োজন নেই আর সেই সব আকাশের,
যেখানে রোদ পড়ে না ঠিকমতো;
শুধু ধুলো জমে— আর জমে অপার্থিব কিছু
অনুচ্চারিত শব্দ,
যা উচ্চারণ করলে মানুষ নয়,
বৃক্ষও পুড়ে যায়।
চিরকাল তো কারও জন্য অপেক্ষা করা যায় না—
এক সময় অপেক্ষাও ভুলে যেতে চায়
তার কাঙ্ক্ষিত মুখ।
এ শহরে রাত নামে,
কিন্তু রাতের ঘ্রাণ নেই।
কোনো কবিতার মতো নয় এই অন্ধকার;
বরং বিষাদে পচে যাওয়া পুরোনো চিঠির স্তূপ—
যেখানে প্রেম কেবল একটি ভুল বানান,
আর সম্পর্ক এক পৃষ্ঠা-ছেঁড়া দৈনিক পত্রিকা;
খবর থাকে না,
শুধু শূন্যতা আর তারিখের গন্ধ।
ফিরে আসবে না যে,
তার ছায়াও আর ডাকে না বটগাছের নিচে।
কতদিন হলো তুমি নও—
অথচ নামহীন সেই বিকেল
আজও জানালায় দাঁড়িয়ে থেকে কেবল তাকায়;
যেন সময়ের বাইরে সে এক লতা,
নিঃশব্দে জড়িয়ে ধরে
পুরোনো এক ক্লান্তির প্রান্তর।
আমি হেঁটে যাই একা।
পায়ের নিচে মাটিরও আর ভাষা নেই—
তবু শব্দ আসে;
মৃতপ্রায়, অথচ জীবনের মতোই জেদি শব্দ,
যা কিছুতেই মরে না।
তাই তো বলি—
প্রয়োজন নেই আর কোনো উত্তর;
প্রশ্নই বরং থাকুক—
যেখানে নিরবতা জন্ম দেয়
একা একা দগ্ধ হাওয়ার।
আর তুমি,
আমার অনুপস্থিতির নিঃশেষ প্রতিচ্ছবি হয়ে,
থেকে যাও শুধু—
এক ব্যর্থ বিষণ্নতার ছায়া-রেখায়।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন