এই দীর্ঘ রাতের ভেতর আমার একটা মানুষ দরকার,
যে রাতের অন্ধকারে বসে
তারাদের গুনতে গুনতে হঠাৎ বলবে,
“মানুষ আসলে একটুকরো আলো,
যে নক্ষত্রের ধুলো থেকে জন্ম নেয়।”
তার কথার ভেতর আমি শুনব—
অর্থনীতি মানে শুধু মুদ্রার হিসাব নয়,
বরং ক্ষুধার্ত শিশুর চোখ।
রাজনীতি মানে কেবল পতাকার রঙ নয়,
বরং মাটির উপর দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের কান্না।
তার কাছে প্রেম মানে
“আমি তোমাকে ভালোবাসি” বলার অভ্যাস নয়।
প্রেম মানে মন খুলে বলা,
মার্ক্সবাদ, নারীবাদ, মহাকাশের ধুলো,
আর মাঠের বুকে জেগে থাকা শিশিরের কথা।
আমি চাই এমন একজন,
যে সমাজতন্ত্রের স্বপ্নে ভিজে যাবে,
যে নারীবাদের তর্ক শুনে
মনে রাখবে মায়ের নীরব পরিশ্রম,
যে প্রজাতন্ত্র, গণতন্ত্রের আলোচনার ফাঁকে
মাঠের ধানগাছের দোলাও শুনবে।
এই জটিল জীবনে একটা মানুষ দরকার,
যে বসে প্রোগ্রামিংয়ের অ্যালগরিদম খুলে খুলে ব্যাখ্যা করবে,
তারপর নদীর ধারে, গাছের নিচে হেসে বলবে,
“এই কোডের মতোই জীবনের ভেতরেও
আছে এক নিখুঁত সূত্র।”
সে জানে—
মহাকাশের অন্ধকারে একটি ছোট নীল গ্রহের নাম পৃথিবী,
যে জানে এ গ্রহের ভেতরে অসংখ্য নদী, মানুষ, স্বপ্ন,
আর গোপনে ফোটে নক্ষত্রের মতো ক্ষুদ্র কষ্ট।
সে আমাকে শোনাবে—
শিল্পের কথা, যেখানে রঙ নিঃশব্দে চিৎকার করে।
সাহিত্যের কথা, যেখানে একটি শব্দে লুকিয়ে থাকে
অসংখ্য জীবনের রোদ-বর্ষা।
সে বোঝে—
ধর্ম আসলে বিশ্বাসের অরণ্য,
অধর্ম তারই উল্টো ছায়া।
অস্তিক্যবাদ ও নাস্তিক্যবাদ মানুষের বুকের দুটি স্রোত,
যেখানে বয়ে যায় প্রশ্নের নদী।
সে বলবে—
স্বাস্থ্য শুধু শরীরের জন্য নয়;
মনকে সুস্থ না রাখলে শ্বাস-প্রশ্বাসও ভারী হয়ে যায়।
জলবায়ুর বদল মানে শুধু তাপ নয়;
মানুষের ভেতরেও ঘটে অদৃশ্য পরিবর্তন।
আমার একটা বন্ধু দরকার,
যে বাংলার মাঠকে প্রেয়সীর মতো ভালোবাসবে,
যে নদীর জলে ডুবে থাকবে,
যে বাতাসের ভেতর খুঁজে পাবে
আমার মনের নিঃশব্দ ব্যথা।
যে ভালোবাসবে গাছের পাতার শব্দ,
নদীর ঘূর্ণি, পাখির ডানা,
মাটির গন্ধ, বর্ষার কাদা,
যেমন আমি ভালোবাসি তার কণ্ঠস্বরের ভেতর
লুকিয়ে থাকা পৃথিবীর গল্প।
এই পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ—
কেউ বলে, কেউ শোনে, কেউ হারিয়ে যায়।
কিন্তু যে মনোযোগ দিয়ে শুনে নেয়,
যে চোখে চোখ রেখে চিনে নেয়
আমার কণ্ঠের কাঁপন,
আমার প্রশ্নের গোপন স্রোত।
সে-ই আমার বন্ধু,
সে-ই আমার প্রেয়সী,
সে-ই আমার নিঃশব্দ আশ্রয়।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন