ইদানীং চারদিকে বড় বেশি পতিতার ভিড় বেড়েছে, তাই না?
তবে তারা গলির মোড়ে দাঁড়ায় না,
তারা নাকি দপ্তরে ফাইল নাড়ে, কম্পিউটারে আঙুল চালায়,
কিংবা হয়তো ক্যাম্পাসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে একটু জোরে হাসে।
শামীম সাহেব বেশ জোর দিয়েই বললেন—ওটা নাকি বেশ্যাখানা ছিল!
শুনে একটু চমকেই উঠলাম।
আমরা তো জানতাম ওটা স্বাধিকারের সূতিকাগার,
কিছু রঙিন স্বপ্ন আর একমুঠো বিদ্রোহের আঁতুড়ঘর।
আসলে চশমার কাঁচটা বদলে নিলে কত কিছুই না পাল্টে যায়!
আমীর সাহেব আবার আরও এক কাঠি ওপরে।
তিনি মহাকাশে জালের মতো ছড়িয়ে দিলেন এক অমোঘ বাণী—
ঘর থেকে বেরোলেই নাকি নারী হয়ে যায় ‘আধুনিক পতিতা’।
কী অদ্ভুত এক জাদুমন্ত্র!
ঘরের চৌকাঠ পেরোলেই মানুষের সংজ্ঞা বদলে দিয়ে পণ্য বানিয়ে ফেলা।
তারাপদ রায়ের সেই ভিখারিটার কথা মনে পড়ে?
যে শুধু চেয়েছিল একটু ভালোবাসা, কিন্তু পেয়েছিল একমুঠো খুচরো পয়সা।
আজকের নারীরাও হয়তো একটু সম্মান আর সাম্য চেয়েছিল,
বিনিময়ে পেল সস্তায় বিকিয়ে যাওয়া কিছু কদর্য বিশেষণ।
পরে অবশ্য আমীর সাহেব বললেন—’আইডি হ্যাক হয়েছে!’
বাঃ, চমৎকার এক পলায়নপর্ব।
সব দায় যখন যন্ত্রের ওপর চাপানো যায়, তখন মানুষ হওয়া বড্ড সহজ।
আমরা হাসব না কাঁদব, তা ঠিক করতে করতেই—
শনিবারের সন্ধ্যাটা একটা বিকৃত কৌতুক হয়ে মিলিয়ে গেল।
আসলে পতিতা কে, আর পবিত্র কে—
সেটা আয়নার সামনে দাঁড়ালে বোধহয় সবচেয়ে ভালো বোঝা যায়।
তবে আয়নাটা যদি নিজের মনের হয়,
তাহলে সেখানে প্রতিচ্ছবি দেখা বড়ই কঠিন কাজ, কী বলেন?

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন