শহরের পিচঢালা কালো পিঠে আজ অদ্ভুত এক নীল জোছনা,
যেন একটা জ্যান্ত ইতিহাস তার কলিজা ছিঁড়ে দেখাচ্ছে আমাদের—
এখানে কোনো ফুল নেই, শুধু জমাট বাঁধা কিছু চিৎকার আছে,
এখানে কোনো দীর্ঘশ্বাস নেই, শুধু আছে বারুদের গন্ধ মাখা একফালি আকাশ।
একুশ মানে কি তবে কেবলই কিছু পাথরের গায়ে মাথা কোটা?
নাকি একুশ মানে মাঝরাতে জেগে ওঠা এক রক্তাক্ত নেকড়ে?
যে নেকড়েটা আজও চিবিয়ে খাচ্ছে শোষকের সাজানো বাগান,
যার থাবায় বিদ্ধ হয়ে আছে বর্ণমালার প্রতিটি হাড়গোড়।
পলাশগুলো যখন লাল হয়ে ঝরছে রমনার ধুলোয়,
তখন কি কেউ ভেবেছিল এই রঙ কোনোদিন শুকোবে না?
সালামের চশমাটা কি আজও খুঁজে ফিরছে সেই হারানো লেন্স?
বরকতের শার্টের বোতাম কি আজও বিঁধে আছে কোনো স্বৈরাচারের বুকে?
ওরা ভেবেছিল বুলেট দিয়ে স্তব্ধ করা যায় প্রাণের স্পন্দন—
মূর্খরা জানেনা, প্রতিটি বুলেটের ভেতরে একটা করে আস্ত দেশ জন্ম নেয়।
আজকের এই মিছিলে আমি কোনো সাদা পাঞ্জাবি দেখি না,
আমি দেখি মিছিলের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে এক ঝাঁক কালো শকুন,
আর তাদের নখ থেকে চুঁইয়ে পড়ছে আমাদের বর্ণমালার ঘাম।
বুটজুতো দিয়ে মাড়িয়ে দেওয়া সেই জবান—
আজ তা হয়ে গেছে এক একটা জ্বলন্ত গ্রেনেড!
শোন হে দেশপ্রেমিক, শোন হে মেকি বিপ্লবী—
একুশ কোনো উৎসব নয়, একুশ হলো এক নিরন্তর অপারেশন।
রক্ত দিয়ে যে দলিল লেখা হয়েছে, তা মুছবে কোন শালার সাধ্য?
যতক্ষণ একটাও কণ্ঠস্বর বেঁচে আছে এই বাংলায়,
ততক্ষণ এই শহর কাঁপবে, এই রাজপথ কাঁপবে—
অমরত্বের নাম করে আমরা আসলে মৃত্যুকে জয় করেছি সেই বায়ান্নতেই!

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন