প্রসূন গোস্বামী

কবিতা - শিকল ও সিঁদুরখেলা

প্রসূন গোস্বামী
শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ অন্যান্য কবিতা

পাথরের জিভ দিয়ে চাটছ অন্ধকার, আর বলছ—
এটাই তো পবিত্র গুহা, এটাই তো নারীজন্মের পরম প্রাপ্তি!
অথচ গরাদহীন সেই ঘরের কোণে জমে আছে শতাব্দীর নোনা জল,
যেখানে সম্মানের নাম করে আদতে বোনা হচ্ছে এক দীর্ঘস্থায়ী কবরের নকশা।

প্রতিবাদ? সে তো এখন কার্নিশে বসা একলা চড়াইয়ের ঝাপটানি মাত্র।
তুমি যখন বললে, ‘ওরা তো পণ্য নয়, ওরা তো আদতে নিভৃতচারী ছায়া,’
তখন পাশের ঘরে কোনো এক কিশোরীর স্বপ্নগুলো
রক্তাক্ত কামিজের মতো কুঁকড়ে যাচ্ছিল অপমানে।
চুপ করে থাকা মানেই কি তবে মেনে নেওয়া?
তবে কি শৃঙ্খলের ঝনঝনানিকেই এখন মল্লারের সুর বলে ভুল করছে এই জনপদ?

‘মর্যাদা’— ভারী সুন্দর একটি শব্দ, তাই না?
যেন ভেলভেটের মোড়কে ঢাকা এক আশ্চর্য বিষফল!
যাকে গৃহবন্দি করার ফন্দি বলে চিনে নিতে বড় দেরি হয়ে গেল।
আসলে তো দরকার ছিল খোলা আকাশ, রুক্ষ রাস্তা আর নিজের ছায়াকে মেপে দেখার অধিকার।
পুতুলনাচের সুতো ছিঁড়ে বেরিয়ে আসার নামই তো বেঁচে থাকা।

‘যৌনদাসী’ শব্দটা বড় কর্কশ শোনায়, বিষের মতো নীল।
কিন্তু যখন তোমার মেরুদণ্ড নুয়ে পড়ে আর প্রতিবাদগুলো মিউজিয়ামে যায়,
তখন ইতিহাসের পাতায় তোমার নামটা কি সত্যিই ‘মানুষ’ বলে লেখা থাকে?
নাকি শুধুই এক নিরবচ্ছিন্ন ছায়ার দীর্ঘশ্বাস?

বাইরে চলো, যেখানে ধুলো আছে, ঘাম আছে, নিজেকে প্রমাণ করার আগুন আছে।
সিঁদুরের লাল নয়, শ্রমের লাল হয়ে ফুটে ওঠো রাজপথে।
কারণ, যে হাত ঘর মোছে, সে হাত আকাশটাকেও ছুঁতে জানে—
যদি না তুমি নিজেই নিজের ডানাগুলো বিসর্জন দাও ওই মিথ্যে সম্মানের যূপকাষ্ঠে।

পরে পড়বো
২৪
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন