প্রসূন গোস্বামী

কবিতা - স্বর্গ থেকে ফেরা

প্রসূন গোস্বামী
শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ অন্যান্য কবিতা

ওখানেও কোনো নদী নেই, কেবল ধবধবে কিছু শ্বেতপাথর
বিছানো রয়েছে দিগন্ত অবধি।
আমি ধুলোমাখা পায়ে একটু আড়াল খুঁজছিলাম,
যেখানে অন্তত নিজের শরীরের ভার নামিয়ে রাখা যায়।

তোমরা যাকে স্বর্গ বলো, সেখানে নাকি সব পবিত্র—
কিন্তু আমি তো আজন্ম এই বাংলার কাদামাটি,
আর দেশভাগের ক্ষত বয়ে বেড়ানো এক সাধারণ হিন্দু।
সেদিন খুব বেগ চেপেছিল,
দেবতাদের সোনালি গেটের পাশে একটু অন্ধকার খুঁজলাম,
ভাবলাম, একটুখানি প্রস্রাব করে নিই।

অমনি আর্তনাদ করে উঠল কেউ—
‘অপবিত্র করছ এ পুণ্যভূমি!’
আমার হাসি পেল।
যে শরীরের রক্তে এখনো ছেঁড়া ভিটের গন্ধ লেগে আছে,
যে শরীর দাঙ্গার রাতে অন্ধকার গলিতে কুঁকড়ে পড়ে ছিল,
তার কাছে পবিত্রতার সংজ্ঞা আজ বড় ঝাপসা।

স্বর্গের দারোয়ান আমার পরিচয় চাইল।
আমি বললাম, ‘ওপার থেকে এসেছি,
একটু জল আর একটু মাটির খোঁজে।’
ওরা আমার জলকেও ভয় পায়, আমার রেচনকেও।

আমি ফিরে এলাম নিচের ওই খোলা মাঠে,
যেখানে এখনো বৃষ্টি নামলে মাটির সোঁদা গন্ধ পাওয়া যায়।
ওখানে প্রস্রাব করার চেয়ে—
আমার এই পোড়ো বাস্তুভিটার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক বেশি মর্যাদার।

স্বর্গ আসলে তোমাদের জন্য,
যাদের কোনো দেশ খোয়া যায়নি।
আমার তো এই অপবিত্র শরীরটাই শেষ আশ্রয়।

পরে পড়বো
৩৪
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন