সহজে মেরুদণ্ড বাঁকিয়ে যারা শুধু মাথা নোয়ায়,
সবুজ পাতারাও কি তাদের এমন সহজে পথ দেখায়?
যেখানে সবাই এক সুরে গায়, এক পোশাকে সাজে,
সেখানে সুরের খাঁজে খাঁজে শুধু অন্ধ বধির বাজে।
বরং তুমি অমিল হও, ভাঙো সে চেনা বৃত্ত,
প্রশ্নের ধার বাড়িয়ে দ্যাখো, কোনটা আসল সত্য।
সব কথায় যে ‘হ্যাঁ’ মেলালো, হারিয়ে নিজের ছায়া,
সে তো আসলে নিজের হাতেই কাটল নিজের কায়া।
ইতিহাস বলে, যারা মিলেমিশে হতে চেয়েছিল একাকার,
নিজেদের সব রং মুছে দিয়ে সেজেছিল জড়াকার—
তারা তো বাঁচেনি, হারিয়ে গেছে একঘেয়েমির স্রোতে,
স্বাধীন পাখি কি কখনো বাঁচে খাঁচার নিয়মমতে?
আলাদা রঙের ফুল ফুটে থাক ডালপালাদের বুকে,
ভিন্ন ভাবনাই আলো জ্বেলে যাক মানুষের এই মুখে।
সম্মতির ঐ বিষাদসিন্ধুর চেয়ে ঢের বেশি ভালো—
বিতর্কের ঐ রুক্ষ পাহাড়ে জ্বালানো সত্যের আলো।
ঐ চেয়ে দ্যাখো, সার বেঁধে যায় অন্ধ অনুসারী,
মস্তিষ্ক জমা দিয়ে হেঁটে যায়, পায়ে পায়ে মহামারি।
উঁচু চূড়া থেকে ঝাঁপ দেবে ওরা সমস্বরের টানে,
তুমি অন্তত প্রশ্ন তোলো, বাঁচো নিজের গানে!