চোখে অশ্রু নিয়ে এসো না
----সাইফুল ইসলাম মৌন।
৩০/০৮/২০২৬
আমি যদি মৃত্যুর অতল অন্ধকারে বিলীন হয়ে যাই,
চোখে অশ্রু নিয়ে এসো না আমার ওঠোনে,
আমার কবরের পাশে অযথা দাঁড়িয়ে
কৃত্রিম বিলাপের অভিনয় কোরো না।
যে নয়নের একবিন্দু অশ্রুর প্রত্যাশায়
আমি জীবদ্দশায়
অগণিত নিশি জানালার ধারে নিঃসঙ্গ বসে থেকেছি,
সে অশ্রু আমার মৃত্যুর পর
আর কোনো শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না।
আমি যদি মৃত্যুবরণ করি,
পুষ্পমাল্য এনো না,
আমার বক্ষের ওপর অভিমানে ঝড়েপড়া শিউলির পাপড়ি ছড়িয়ে কী-ই বা হবে?
যে বসন্তে তুমি আসোনি,
সে ঋতুর পুষ্পসম্ভার আমার মৃত্তিকার নিবাসে আজ নিতান্তই বেমানান।
শুধু একবার আমার নামটি নিঃশব্দে উচ্চারণ কোরো,
যেভাবে একদিন প্রেমের অন্তরালে আমাকে ডেকেছিলে।
তারপর অনাদ্রে প্রত্যাবর্তন কোরো,
অন্য কারও করতল ধারণ করে,
অন্য কোনো আলোকোজ্জ্বল গৃহের অভিমুখে।
আমার জন্য শোকানুষ্ঠান কোরো না,
কারণ শোকের ভার বহন করেই আমি সমগ্র জীবন অতিবাহিত করেছি।
আমার মৃত্যুদিবসে তোমার নয়নে যদি অশ্রু সঞ্চারিত হয়,
তবুওঅশ্রু বিসর্জন কোরো না।
আমার কবরের মৃত্তিকা সিক্ত করে
আমাকে আর পুনরুজ্জীবিত করা যাবে না।
বরং কোনো এক নিঃসঙ্গ নিশীথে
নক্ষত্রখচিত আকাশের পানে চেয়ে
শুধু বলো;
“মানুষটি গভীরভাবে ভালোবাসতে জানত,
কিন্তু ভালোবাসার মানুষটিকে
কখনো আপন করে পাওয়ার সৌভাগ্য তার হয়নি।”
আমি যদি মৃত্যুর অতলান্ততে তলিয়ে যাই
চোখে অশ্রু নিয়ে এসো না।
আমার জন্য একমুঠো নৈঃশব্দ্য এনো,
একটি অসমাপ্ত পত্র এনো,
আর যদি তোমার সাধ্যে কুলোয়,
তোমার হৃদয়ের সেই দ্বারটি
একবার উন্মুক্ত রেখো, যার সম্মুখে দাঁড়িয়ে
আমি জীবনের অন্তিম আলোকরেখা পর্যন্ত
অপেক্ষার প্রহর গুনেছিলাম।
তারপর প্রস্থান কোরো।
কারণ মৃত্যুর পরও আমি চাই না।
তোমার পথের ওপর
আমার কোনো অনাদায়ী ঋণ অবশিষ্ট থাকুক।
শুধু বিদায়ের পূর্বক্ষণে কবরের মৃত্তিকায় হাত রেখে
একবার উচ্চারণ কোরো,
ক্ষমা করো,
তোমাকে জীবনের প্রান্তসীমা পর্যন্ত
ধরে রাখার মতো
পর্যাপ্ত ভালোবাসা আমার ছিল না।
তখন হয়তো মৃত্তিকার গভীরে নিদ্রিত আমি
প্রথমবারের মতো সমস্ত অভিমান বিসর্জন দিয়ে
তোমাকে ক্ষমা করে দেব।
কবিতা — চোখে অশ্রু নিয়ে এসো না
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিরহের কবিতা
,
প্রেমের কবিতা
১৪
এআই বিশ্লেষণ (মূলভাব)
'চোখে অশ্রু নিয়ে এসো না' কবি সাইফুল ইসলাম মৌনের একটি সুগভীর আবেগঘন ও বিরহপ্রধান কবিতা। এখানে কবি মৃত্যুর পর কৃত্রিম শোক প্রকাশ বা পুষ্পমাল্যের আয়োজন না করে জীবদ্দশার অধরা ভালোবাসাকে নীরব স্মরণে ধারণ করার আকুতি জানিয়েছেন। কবিতাটিতে জীবনের অপূর্ণতা, নীরব অভিমান এবং মৃত্যুর পর ভালোবাসার মানুষকে ক্ষমা করে পরম শান্তি খোঁজার এক আকুল আত্মোপলব্ধি ফুটে উঠেছে।
অনুসন্ধান করুন
সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ
প্রিয় কবি বন্ধু, আপনার আন্তরিক প্রশংসার জন্য হৃদয...
আরো দেখুন
কাজী অ্যাডাম
লেখক:
কাজী অ্যাডাম
প্রিয় কবি বন্ধু, আপনার আন্তরিক ভালো লাগার জন্য কৃ...
আরো দেখুন
কাজী অ্যাডাম
লেখক:
কাজী অ্যাডাম