শ্বেতা চক্রবর্তী

কবিতা - ঈশ্বর বিদ্যাসাগর

শ্বেতা চক্রবর্তী
বুধবার, ০৬ আগস্ট ২০২৫ বিবিধ কবিতা, স্মৃতিচারণ

হ্যাঁ ,তুমি ঈশ্বরই..
সে এক বয়স ছিল,তখন কিশোরী..বর্ণপরিচয় ছাড়া
তুমি কিছু বিশেষ ছিলেনা..
আশৈশব কবিতা প্রিয়তা,
তুমি কিছু কবিতা ছিলে না..!
তার ওপর সুন্দরের তৃষ্ণা আমার,
সেও তোমাকে দিয়ে পূর্ণ হবার
উপায় ছিলনা..
তারপর একদিন বয়স আমারও হল..
বেলা পড়বার আগে দেখলাম
তুমি বাঙালির বর্ণ,
তুমি বাঙালির পরিচয়..
দূর অতীতের কলকাতা..
কলুটোলা পেরিয়ে,
পেরিয়ে ঠনঠনে কালীবাড়ি,
বইপাড়া ডিঙিয়ে
তুমি ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছ..
দেহে জবজবে ঘাম,
মাথাভর্তি ভাদ্রের ঝনঝনে রোদ,
তবু স্বপ্ন চোখে,
এ তোমার নিত্য-সঙ্গী..!
পেছন পেছন আসা
দুজন লেঠেল
এ গলি ,সে গলি পেরিয়ে
তোমাকে অনুসরণের শেষে ক্লান্ত-হাতে তাক করে
মাথায় তুলেছে যেই লাঠি,
তুমি ক্ষিপ্রগতিতে ঘুরে
বুকের সমস্ত বেদনা,
চোখের সমস্ত কষ্ট জড়ো করে
স্নিগ্ধ কণ্ঠে বলেছ–‘বাছারা,
কত টাকা পাবি তোরা
আমাকে মারার পর বল…¡
মুখ যে তোদের একেবারে
শুকিয়ে গিয়েছে..
কতক্ষণ খাওয়া হয় নি রে…?’
অতঃপর অন্য দৃশ্য..
দুজন লেঠেল লুটিয়ে পড়েছে
সাগরের পায়ে..
হাউমাউ কান্না..
সাগরের নোনাজল ধুয়ে দিচ্ছে
সমস্তটা গ্লানি ও মালিন্য..
আরো দূরে বিসর্পিত করো দৃষ্টি..
একখানি বিবাহ মণ্ডপ..
নববধূ সাজে সজ্জিতা বিধবা তরুণী..
নতুন ধানের গন্ধ নতুন নবান্নে..
বরটি নবীন..
বিবাহ-সভায় তখনি প্রবেশ
বিদ্যাসাগরের..
মন্ত্ৰপড়া ভুলে আভূমি
লুটিয়ে পড়া নববধূটি..
ঈশ্বরের পা
এভাবে ধুইয়ে দেওয়া ছাড়া
বাংলানারীদের আর কোনো
উপায় ছিল না..
আজ তিনি আমার প্রেমিক..
চূড়ান্ত ঈপ্সিত..
আরেকবার ফিরে এসো পোড়া বাংলাদেশে..অসহায় নারীদের
কপালে টি দিয়ে যাও..
এতবড় বাংলার আকাশে
তুমি ছাড়া আর কে চন্দ্ৰ আছে…?
আর কে ঈশ্বর…?

পরে পড়বো
৮৬
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন