বিজয় ট্রেনের
০৬০৩ ইমার্জেন্সি উইন্ডোর সিটটায় বসে আছি।
কলমটা হাতে অনেকক্ষণ।
তবু একটা শব্দও আসছে না।
কিছু কিছু দিন —
লিখতে ইচ্ছে করে,
কিন্তু মনটা কাগজে থাকে না।
মনটা আজ বাসায় পড়ে আছে।
বৃহস্পতিবার এলেই তো
বাসার কথা মনে পড়ে —
তাই আজও ময়মনসিংহের পথে
নিজেকে তুলে দিলাম ট্রেনের হাতে।
জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিলাম অন্যমনস্ক হয়ে।
স্টেশন পেরোনোর সময় হঠাৎ চোখ আটকে গেল
একটা ছেলের দিকে।
ফ্যাকাসে মুখ।
চোখেমুখে ক্লান্তি।
শরীরটা এতটাই শুকিয়ে গেছে
যেন ক্ষুধা মৃত্যুর খুব কাছে ,
এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরছে।
কারও কাছে হাত পাতছে,
কারও কাছে হয়তো একটু খাবারের আশায় দাঁড়াচ্ছে।
তার দিকে না তাকিয়ে
সবাই পাশ কাটিয়ে
নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাচ্ছে;
হয়তো সবারই তাড়া আছে—
জীবনের কাজে। ,
কিছুক্ষণ পর দেখলাম,
ছেলেটা স্টেশনের চাতালে বসে পড়ল।
মনে হলো,
শরীরটা আর হাঁটতে রাজি না।
আমি তাকিয়ে রইলাম।
ঠিক তখন পাশের একজন জিজ্ঞেস করল,
কী দেখছেন?
আমি জানালার বাইরে তাকিয়ে রইলাম,
কিন্তু উত্তরটা যেন
আমার ভেতরেই আটকে রইল,
ট্রেন তখন এগিয়ে যাচ্ছিল,
স্টেশনটা ধীরে ধীরে পিছনে ।
পাশে লোকটার দিকে তাকাতেই চোখ কপালে
একি, এটাই তো সেই ছেলেটা!
শুধু একটা প্রশ্ন
০৬০৩ ইমার্জেন্সি উইন্ডোর পাশে আমার সঙ্গে