আদি হতেই সৃষ্টিতে বলশালী আর বলহীন এই ভেদ,
কারণ তার আছে নিশ্চয়—অজ্ঞ খোঁজে মূল্যহীন খেদ।
যদি এক বৃহৎ মাটির ডেলা রাখো ক্ষুদ্রের উপরে,
চূর্ণ হবে ক্ষণিকে ক্ষুদ্র বড়োর ভরে প্রবল জোরে।
না চাইলেও বিনা ইচ্ছায় বড়ো ক্ষুদ্রকে করে ক্ষয়,
প্রকৃতির নীরব বিধান যুগে যুগে নিরবে অম্লান রয়।
যদিও আকার শুধু নয়কো শক্তির চূড়ান্ত পরিচয়,
বামন তারা কোটি সূর্য গ্রাসে—মুহূর্তেই গিলে খায় ।
এটাই নিয়ম মানুষ জেনেছে বিজ্ঞান সাধনা করে,
অণুশক্তির গোপন বন্ধন বিশ্বজগৎ আছে জুড়ে ।
অন্তর-শক্তি, গঠন, বন্ধন—আরও অজস্র অদেখা দিক,
মেপে দেয় বড়ো-ছোট সকল বস্তুর শক্তির গাণিতিক।
মনে মনে ভাবি যদি সবই হতো সমান জগৎজুড়ে,
চাঁদ-সূর্য আর পৃথিবী থাকত কি আর কক্ষপথ ঘিরে?
রাজা-প্রজা একাকার হলে বদলাত কি কালের রথ?
সৃষ্টি কি হারাত আপন ছন্দ, আপন গতি, আপন পথ?
জন্তুর দলেও শক্তিশালী গোষ্ঠীপতি দুর্বলের নেতা,
অনুসরণ কর—নয়তো সরে যাও, এতো প্রাচীন প্রথা।
নীল আকাশে ছোট্ট তারা ভুলে এলে বৃহতের পাশ,
কৃষ্ণগহ্বর গ্রাসে আকর্ষণে দুর্বার নেশায় করে সর্বনাশ।
মানুষ শুধু ভরে নয়, মন-বুদ্ধি-চেতনায় মহীয়ান,
জড়ের শক্তি বেঁধে রাখে, রচনা করে নতুন জ্ঞান।
সুন্দরী নারীর কোমল দেহে দৃশ্যত শক্তি যতই কম,
রূপের মোহে প্রতাপী জনও হারায় স্রদ্ধার আসন ।
মানুষের শক্তি শরীরে নয়, অন্তরজুড়ে অসীম অপার ,
ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে বড়ো-ছোটোর দ্বন্দ্ব—সৃষ্টির চিরন্তন বিচার।
আদিম সমর্থন বড়ো-ছোটোর—মানুষ, প্রাণী, জীব, জড়;
শক্তির ভিন্ন স্রোত বয়ে যায় সৃষ্টির অন্তরালে অন্তহীন প্রহর।