অস্তিত্বের বিভ্রম হয়ে আমার সামনে কেন দাঁড়িয়ে আছো?
আমাকে প্রবেশ করতে দাও সেই জড়ের অন্তর্লোকে,
যেখানে নৈতিকতার ঈশ্বর আর অ-নৈতিকতার শয়তান—
উভয়েই আজ কেবল নিরপেক্ষ শক্তি হয়ে থাকে।
সরে দাঁড়াও, মানুষ।
তুমি ইতিহাসের দীর্ঘ পরম্পরায় সময়ের পথে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক।
আমাকে জানতে দাও—
কোন সত্তা নিজেকে কঠিন পদার্থের নৈর্ব্যক্তিক দৃঢ়তায় রূপান্তর করতে চায়,
আর কোন জড়বস্তু তার নিষ্পাপ নিষ্ঠুরতায় সত্যিকারের স্বাধীন অস্তিত্ব পেতে চায়।
আমি মানুষকে জানি—
তারা কেবল জৈব সত্তা নয়;
তারা অর্থহীনতার অন্তহীন বংশধর,
যেখানে একদল ধ্বংসের জন্য জন্মায়
আরেকদল সেই ধ্বংসে নিহত হওয়ার জন্য।
আমি জন্মেছি সেই ভিড়ে,
তবু আমাকে খুঁজে নিতে হবে সেই স্থান
যেখানে মৃত্যু হবে জীবনের নিয়মে নয়,
বরং অস্তিত্বের মুক্তিতে।
সরে দাঁড়াও, মানুষ।
জড়পদার্থ আমাকে আহ্বান জানাচ্ছে।
প্লেট, চামচ, কাপ—
এই অবচেতন জড়েরা জানে মানুষের ক্ষুধা কত গভীর,
এবং জানে পৃথিবী গ্রাস করার আগে
মানুষের লোভ কোথায় গিয়ে থামতে পারে।
সরে দাঁড়াও।
জৈব গন্ধ আমার কাছে মৃত্যুর পচন।
আমি তাকাতে চাই ইস্পাতের জানালার দিকে,
যে জানালা নিজেই নিজেকে খোলে—
এবং আমাকে দেখায় সূর্যের নিরাবেগ জড় আলোক।
আমি পালাতে চাই জীবনের দিকে নয়—
বরং সেই নিরাবেগ মহাবিশ্বের দিকে,
যেখানে কাম স্মৃতি হয়ে থাকে,
ধর্ম বালুকণায় লেখা এক অনন্ত চিহ্ন,
আর ঈশ্বর ও শয়তান
রূপান্তরিত হয় অস্তিত্বের নিস্পৃহ সমীকরণে।
সরে দাঁড়াও।
ইঞ্জিনের ভেতরে জমা আছে সময় পেরোনোর জ্বালানি—
মানব অনুভূতির ইতিহাস-লিখিত শক্তি।
কারো চোখের কোণে জল দেখে
আমি হঠাৎ বুঝতে পারি—
আমি-ও একদিন ছিলাম প্রাণী,
আজ তার স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক সচেতন দ্বিধা।
সরে দাঁড়াও।
কারণ আজ জড়পদার্থই আমাকে শেখায়—
আমরা জীবন, অথচ আমরা জানি না জীবনের অর্থ।
আমাকে অনুভব করতে দাও জড়ের অনুভূতি,
কারণ তাতেই সুপ্ত রয়েছে ভবিষ্যতের ঈশ্বর, ভবিষ্যতের শয়তান,
এবং আমার অস্তিত্বের শেষ সত্য।
প্রাগৈতিহাসিক সেই জলের জড় হৃদয় থেকেই
যেভাবে উঠে এসেছিল জীবনের অঙ্কুর—
আমি আবার ফিরে যেতে চাই সেই উৎসের কাছে,
যেখানে থাকছে নিস্পৃহ সত্যের স্থির জ্যোতি।
৪৬

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন