ফেসবুক
শংকর ব্রহ্ম
১).
ফেসবুকে আছে যত সাহিত্যের গ্রুপ
প্রত্যক্ষ করতে গিয়ে তাদের স্বরূপ?
কিছুদিন তাতে যদি লিপ্ত থেকে হায়
আগা পাশ তলা সব খুলে দেখা যায়।
ক্রমশই অনুভূত হয় এক অদ্ভুত ব্যাপার,
দরকার হয় না কোন লেখা পড়বার
নামগুলো দেখো শুধু চেনা কি অচেনা,
দেখে লাইক দিয়ে যাও,শুধু বন্ধু গোনা
বিপরীত লিঙ্গ হলে কমেন্ট কিছু বাড়ে,
কেউ কেউ অনায়াসে খুশি করে তারে।
এই ভাবে কিছুদিন চললেই পরে
পায়ে এসে সাফল্য মুখ থুবড়ে পড়ে।
অন্যদিকে মনে মনে খুব মুষড়ে পড়ে
কারণে ও অকারণে ঘরে ও বাহিরে
সৎভাবে সাহিত্য করতে আসে যারা
কমেন্টের অভাবে ক্রমাগত তারা।
আবার এখানে আছে কিছু নির্লজ্জ চোর
মাঝে মাঝে ভাঙে তারা কবিতার ঘোর।
আর আছে কিছু কিছু ধূর্ত ব্যবসায়ী
সাহিত্যকে পণ্য করে তোলার জন্য দায়ী।
২).
তোমার সময় হলে যেও তুমি চলে
কবি শুধু আনন্দ পায় মনের কথা বলে
মনে যে কি ইচ্ছা হয়
খুলে বল সে সব কথা না করে সংশয়
কবির প্রেমে মুগ্ধতা রয় অন্য কিছু নয়।
তুমি যে খুব ভাল সেটা কবি ভুলতে পারে বল
তোমায় ভোলা সহজ নয়
তাই যে কবির লাগছে ভয়,ভবিষ্যতে কি যে হয়
তোমায় কেউ বাসে না ভাল বললে কেন তুমি?
তোমায় কবি ভালবাসে জানে অন্তর্যামী।
৩).
ফেসবুকে কিছু বন্ধু কাছে চলে আসে
কিছু বন্ধু দূরে দূরে থাকতে ভালবাসে,
কিছু বন্ধু কাছে এসে পুনরায় দূরে সরে যায়
কিছু বন্ধু অকস্মাৎ একেবারে কাছে চলে আসে।
এই সব যাওয়া আসা খেলা শুধু চলতেই থাকে
কেউ কি আর কাউকেই আজীবন বল মনে রাখে?
যাওয়া আসা খেলা চলে জীবনের প্রতি বাঁকে বাঁকে,
তার লেখা কবিতায় কবি সেই ছবি ধরে রাখে।
৪).
বাইরের কাজকর্ম টুকটাক সেরে
টুককরে ঢুকে পড়ি
ফেসবুকের অন্তরে,
আনন্দে কেটে যায় সারাদিন ধরে
একমাত্র তাকে সাথী করে।
এখানে যে কত সুজন সখা
কত যে এখানে সাথী,
কালকে যাকে চিনতামও না
বন্ধু রাতারাতি।
কেউ আসে, কেউ ফিরেও যায়
থাকে না চিরকাল,
বলতে পার সময়ে এই
নিত্য নতুন চাল।
ভাবি না তাই ও সব নিয়ে –
থাকে যে,তাকে রাখি
মনে থাকে না তাদের কথা,
যায় যারা, বাদ বাকি।
৫).
বেশ কিছুদিন থাকব না ফেসবুকে
অভাব আমার বিঁধেবে কারও বুকে?
খুব জানতে ইচ্ছে করে
একান্তে, অন্তরে
যখন চিরতরে আর থাকব না ফেসবুকে
তোমরা থাকবে কোথায় যে কে?
থেকো সবাই অন্তবিহীন সুখে
আমায় না পেলে কোথাও খুঁজে।
জানবে আমি থাকব সবার মাঝে
নীরবে মনের ভিতর ঢুকে,
সকাল বিকাল সন্ধ্যাবেলায়
দিনে এবং রাতে সবার দুঃখে সুখে।
