কবিতা — মানচিত্রের বাইরে

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ অন্যান্য কবিতা

“স্নিগ্ধা, দ্যাখো, ওরা নাকি নতুন দেশ বানাচ্ছে!”
অভিরূপের আঙুল ছোঁয় ভাঙা শহিদ মিনারের চাতাল,
যেখানে আলপনার রঙ মুছে এখন ধর্মের কড়া ফতোয়া।
ওরা বলছে— ওসব নাকি পৌত্তলিকতা, ওসব নাকি পাপ!
রমনার বটমূল, মঙ্গলের শোভাযাত্রা, বৈশাখের ঢোল—
সব নাকি ভিনদেশী হাওয়া, সব নাকি আজ হারাম!

ওরা অন্ধকারে দেশ দেখাচ্ছে, স্নিগ্ধা।
টিভি স্ক্রিনে, মাইকের চিৎকারে, চোরবালির মতন ফেসবুকে,
ওরা উপড়ে ফেলছে লালন, রবীন্দ্রনাথ, আর বাউলের একতারা।
বলছে— “এটাই আসল বাংলা, শুদ্ধ আর পবিত্র!”
অথচ আমরা দেখছি এক অচেনা, হিংস্র স্রোত—
যা আমাদের হাজার বছরের নদীটাকে গিলে খেতে আসছে।

“অভিরূপ,” স্নিগ্ধা ডাকে ফিসফিসিয়ে,
“আমি এই নতুন জল্লাদখানায় বাঁচতে চাই না।
যেখানে শাড়ির আঁচল দেখলেই তেড়ে আসে হাজারো চোখ,
যেখানে ‘জয় বাংলা’ বলতে বুক কাঁপে যুবকের,
যেখানে এক অদ্ভুত, আরব্য মরুর হাওয়া
আমাদের সবুজ ধানখেতগুলোকে পুড়িয়ে ছাই করে দিচ্ছে।”

আমরা তবে পালিয়ে যাই, অভিরূপ?
না, নৈশ বিদ্যালয় থেকে নয়—
এই মিছিমিছি ‘আজাদ’ হওয়া ভয়ের খাঁচা থেকে।
ওরা যখন আরবি হরফে আমাদের মেঘনা-পদ্মার নাম লিখতে চায়,
আমরা তখন চুপিচুপি বুড়িগঙ্গার তীরে গিয়ে বসি।
মনে পড়ে— ঠাকুমার লক্ষ্মীর ঝাঁপি, পুণ্যি-পুকুরের জল,
পয়লা বৈশাখের সকালে পান্তা-ইলিশের সেই চেনা ঘ্রাণ।

ওরা আমাদের এক সর্বনাশা, অন্ধকার ‘ঐক্যবদ্ধ মৃত্যু’র দিকে ঠেলে দিচ্ছে,
যেখানে বাঙালি মরবে, আর বেঁচে থাকবে কেবল এক উগ্র মুখোশ।
কিন্তু গুরুমশাই, কিংবা হে নতুন যুগের জল্লাদদল—
তোমাদের এই জোর করে চাপানো অন্ধকারে আমরা দেশ দেখি না!

স্নিগ্ধার চোখের কোণায় জমে থাকা এক ফোঁটা শ্রাবণের জলে
এখনও বেঁচে আছে অপরাজিতা ফুলের নীল,
অভিরূপের বুকের গভীরে এখনও গুনগুন করে— “আমার সোনার বাংলা।”
তোমরা ম্যাপ বদলে দিতে পারো,
রক্ত দিয়ে কেনা এই মাটির সুবাস তো কাড়তে পারো না!

৩ বার পঠিত রিপোর্ট

মন্তব্য করুন

লেখকের অন্যান্য প্রকাশনা