কবিতা — জলজ কোলাহল

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ প্রকৃতির কবিতা

আষাঢ় এলে আকাশ প্রথমে কালো হয় না,
কালো হয়ে ওঠে সেই মানুষের চোখ,
যে জানে প্রতিটি মেঘের ভেতরে
লুকিয়ে আছে তার আগামী কয়েক দিনের অনাহার।

একই বৃষ্টির নিচে কেউ লেখে প্রেমের কবিতা,
কেউ দরজা আটকে রাখে শেষ মুঠো চাল বাঁচাতে।
প্রকৃতি কাউকে আলাদা করে দেখে না,
তবু পৃথিবী প্রতিটি ফোঁটার আলাদা বিচার করে।

জল প্রথমে ডুবিয়ে পথ,
অত:পর উঠোন, ঘর।
সবশেষে ডুবে যায় মানুষের সেই বিশ্বাস,
যে ঘর একদিন তাকে চিনে রাখত।

বীজগুলো ঘুমায় না, তারা অপেক্ষা করে।
কৃষকের চোখও শুকিয়ে থাকে না।
সে মেঘের চেয়ে ভারী হয়ে ওঠে,
অঙ্কুরহীন ভবিষ্যতের নীরবতায়।

গোয়ালঘরে ক্ষুধারা কোনো শব্দ করে না,
তবু তার ভাষা সবাই বুঝে।
অবলা প্রাণীর চোখে যে শূন্যতা জন্মায়,
তা মানুষের অভিধানে লেখা নেই।

চারদিকে শুধু জল থৈ থৈ করে।
তবু একটি শিশুর ঠোঁট ফেটে যায় তৃষ্ণায়।
তখন বোঝা যায়, পৃথিবীতে সবচেয়ে গভীর অভাব
পানি নয়, নিরাপত্তা।

পাহাড় ভেঙে পড়লে কেবল মাটি নামে না,
চাপা পড়ে যায় একটি বংশের স্মৃতিও ।
যারা বেঁচে যায়,
তাদের জীবন কভু ফিরে না অতীতে।

বৃষ্টি কখনও নিষ্ঠুর নয়।
নিষ্ঠুর আমাদের অসম পৃথিবী।
একই আষাঢ় কারো উঠোনে শস্য ফলায়,
কারো নাম লিখে রাখে ভাঙনের ইতিহাসে।

তাই আমি আষাঢ়কে ঋতু বলি না।
তাকে বলি এক আয়না ।
যেখানে আকাশের চেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে
মানুষের অসম ভাগ্যের মুখ।

©_অরণ্য
#অনিকেত_কান্তা

৪ বার পঠিত রিপোর্ট

মন্তব্য করুন

লেখকের অন্যান্য প্রকাশনা